রাজস্থানে ফের সরকারি স্কুলের ছাদ ধস নাগৌরে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও সরকারি পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র প্রশ্ন!

জলওয়ারে সাত পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজস্থানে ফের ভেঙে পড়ল একটি সরকারি স্কুলের ছাদ। এবার ঘটনাস্থল নাগৌরের ডেগানা এলাকার খারিয়াওয়াস গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে এ যাত্রায় ভাগ্যক্রমে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, কারণ ছাদ ধসে পড়ার সময় স্কুলে কোনো পড়ুয়া উপস্থিত ছিল না।
ছাদ ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ শুনে আতঙ্কে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গ্রামবাসীরা। ছাদ ধসে যাওয়ার পর যা চোখে পড়ে, তা দেখে শিউরে উঠেছেন সকলেই। স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, “যদি এই সময় ছেলেমেয়েরা স্কুলে থাকত, তাহলে কী হতো? কে নিত তার দায়?”
এই ঘটনা ফের একবার রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর আগে শুক্রবার, অর্থাৎ গতকাল, জলওয়ারের পিপলোদি সরকারি স্কুলের একাংশ ভেঙে পড়ে ৭ জন পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছিল। সেই ভয়াবহ ঘটনা গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। জানা যায়, পিপলোদির স্কুলে প্রার্থনার সময় ক্লাস সিক্স ও সেভেন-এর ছাত্রছাত্রীরা ভেতরে বসেছিল, তখনই আচমকা ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে এবং অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
পিপলোদির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেন, কীভাবে ভেঙে পড়া কংক্রিট, ইট ও সিমেন্টের স্তূপের নিচে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আটকে পড়েছিল। অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে মাটি সরিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে পাঁচজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং উচ্চ পর্যায়ের তদন্তও শুরু হয়েছে। তবে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মতে, শুধু সাসপেন্ড করলেই সব দায় মিটে যায় না। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুল ভবনের বেহাল অবস্থার কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পিপলোদিতে এই ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা রাস্তা অবরোধ করেন, টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান, এমনকি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরও চালান। তাঁদের প্রধান দাবি ছিল, অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
রাজস্থানে পরপর এই ধরনের ছাদ ধসের ঘটনায় অভিভাবকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এমন অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো কতটা নিরাপদ? সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো সংস্কারের অভাবে আর কতজন পড়ুয়াকে এমন বিপদের সম্মুখীন হতে হবে, তা নিয়েই এখন রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।