মহেশতলায় মায়ের দগ্ধ দেহ উদ্ধার, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য

মাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে মহেশতলার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সারাঙ্গাবাদ এলাকায়, যা গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে সঞ্জয় ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত সঞ্জয় মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্জয়ের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ঘরের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। সে সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা মহেশতলা থানায় ও বজবজ ফায়ার ব্রিগেডে খবর দিলে মহেশতলা থানার পুলিশ এবং ফায়ার ব্রিগেড কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বিজলী ঘোষ (৭০) নামের ওই মহিলাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন পুরকাইত বলেন, “সঞ্জয়ও ঘরের মধ্যে ছিল। আগেও ছেলেটি মায়ের সঙ্গে ঝামেলা করত। আগে একবার পুলিশ এসেছিল। তবে এবার এই ঘটনা ঘটাবে, তা কেউই ভাবতে পারেনি।”
বজবজ ফায়ার স্টেশন অফিসার অমিত মণ্ডল এই ঘটনা নিয়ে বলেন, “খবর পেয়েই তাঁরা উদ্ধার করতে ছুটে আসেন। আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কীভাবে এই আগুন লেগেছে, তা এখনও জানা যায়নি। ঘরের মধ্যে ছেলেটি ছিল, তাকে পুলিশ নিয়ে গেছে।”
মহিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মহেশতলা থানার পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে এই আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মানসিক অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয়দের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।