নিরাপদ আশ্রয়েই চরম নির্যাতন, HIV আক্রান্ত নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, লাতুরে হোম প্রধানসহ ৪ আটক

যে সেবালয়ে ‘সুরক্ষিত’ থাকার কথা ছিল, সেখানেই চরম অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলো এক এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত ১৬ বছরের নাবালিকা। দীর্ঘ দিন ধরে ধর্ষণের ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরে তাকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের লাতুরের হাসেগাঁও সেবালয়ে, যার প্রধানই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, হাসেগাঁওয়ের ওই সেবালয় কেন্দ্রে গত দুই বছর ধরে থাকত নির্যাতিতা নাবালিকা। অভিযোগ অনুযায়ী, হোমের অমিত মহামুনি নামের এক কর্মী ১৬ বছরের ওই নাবালিকাকে নিয়মিত ধর্ষণ ও মারধর করত। মেয়েটি বিষয়টি হোমের প্রধান রবি বাপাতলেকে জানালেও তার কথায় কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বারবার ধর্ষণের ফলে যখন নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে, তখন হোমের প্রধান রবি বাপাতলেই তাকে জোর করে গর্ভপাত করান বলেও অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা কিশোরী পুলিশকে আরও জানিয়েছে যে, ওই সেবালয়ে অন্য মেয়েদের সঙ্গেও এই ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়ি ধারাশিব জেলায়। সে কোনোভাবে বাড়িতে গিয়ে তার দাদু-ঠাকুমাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। নাতনির সঙ্গে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে শুনে দাদু তড়িঘড়ি পুলিশের দ্বারস্থ হন। ধোকি থানায় গিয়ে ৬ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার।

লাতুর জেলায় অবস্থিত হাসেগাঁও সেবালয়টি আউসা থানা এলাকার অন্তর্গত। ধোকি থানার আধিকারিকরা আউসা থানাকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে হোমের প্রধান রবি বাপাতলে, রচনা বাপাতলে, অমিত মহামুনি এবং পূজা ওয়াঘমারে। এদের মধ্যে হাসপাতালের প্রধান ও সুপারও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হোমের প্রধান রবি বাপাতলে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লাতুর জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এই ঘটনা সেবালয় এবং হোমে থাকা অনাথ বা অসহায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে তাদের ‘সুরক্ষিত’ রাখার কথা, সেখানেই তাদের উপর এমন পাশবিক নির্যাতন ঘটে চলেছে। দ্রুত এই ঘটনার সুবিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।