জগৎসিংপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২, আতঙ্ক ও ক্ষোভ

ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলায় এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে লাগাতার গণধর্ষণ এবং ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টার এক নৃশংস ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তবে তৃতীয় এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। গত এক সপ্তাহে এটি এই জেলায় দ্বিতীয় ধর্ষণের মামলা, যা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীকে দীর্ঘ দিন ধরে অভিযুক্তরা একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। যখন কিশোরী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে, তখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তারা এক ভয়ংকর পরিকল্পনা করে। অভিযুক্তরা কিশোরীকে গর্ভপাত করানোর কথা বলে একটি নির্জন স্থানে ডেকে পাঠায়। কিশোরী সেখানে গেলে দেখতে পায়, একটি গর্ত খোঁড়া রয়েছে। সেখানেই অভিযুক্তরা তাকে হুমকি দেয় যে, তাদের কথা মতো গর্ভপাতে রাজি না হলে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হবে।

কোনওরকমে সেই বিপদজনক স্থান থেকে পালিয়ে আসে নির্যাতিতা কিশোরী। বাড়িতে ফিরে সে তার বাবার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপরই কিশোরীকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। কুজঙ্গ পুলিশ স্টেশনে কিশোরীর বাবা এই নৃশংস ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং জড়িত সন্দেহে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। তবে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে। তার খোঁজে পুলিশ জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

এই ঘটনাটি জগৎসিংপুর জেলায় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ধর্ষণের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলো। গত মঙ্গলবারও এই জেলায় এক নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে একটি খামারবাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

উদ্বেগজনকভাবে, গত এক মাসে ওড়িশায় কমপক্ষে ১২টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। এই লাগাতার ধর্ষণের ঘটনাগুলি রাজ্যে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।