মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ও ‘মহানায়ক সম্মান’ প্রদান

বাঙালির হৃদয়ের সম্রাট, কিংবদন্তী অভিনেতা উত্তম কুমারের ৪৪তম প্রয়াণ দিবস আজ। প্রতি বছরের মতো এবারও এই বিশেষ দিনটিতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থেকে প্রয়াত মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান এবং বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ‘মহানায়ক সম্মান’ প্রদান করেন।
কলকাতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহানায়ক উত্তম কুমারের অবদানকে স্মরণ করে বলেন, “উত্তম কুমার কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালির আবেগ। তাঁর অভিনয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব আজও কোটি কোটি মানুষকে মুগ্ধ করে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে, যা আজও পূরণ হয়নি।”
অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য একাধিক গুণীজনকে ‘মহানায়ক সম্মান’-এ ভূষিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন, যা শিল্পীদের কাজের প্রতি রাজ্য সরকারের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন মহানায়কের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, তেমনি বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদেরও তাঁদের কাজের জন্য উৎসাহিত করে।
উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং চলচ্চিত্র প্রেমীরাও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। দিনভর তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা এবং স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কিংবদন্তী অভিনেতাকে স্মরণ করা হচ্ছে।
মহানায়ক উত্তম কুমার ১৯২৬ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ২৪শে জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে তিনি দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজেকে এক অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছেন। আজও তাঁর জনপ্রিয়তা অমলিন, এবং তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি বাঙালির জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং ‘মহানায়ক সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠানটি উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবসে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে, যা শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতাকেই তুলে ধরে।