মিঠুন চক্রবর্তীর হুঙ্কার, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ‘মারো’ মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক, তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা থেকে রাজ্যে বিজেপির হয়ে কাজ করার অঙ্গীকারের পর এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তৃণমূল কংগ্রেসকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে ক্ষমতাচ্যুত করার সংকল্প নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কড়া বার্তা দিলেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং রাজ্যে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আরামবাগে দলীয় কর্মীদের সামনে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধন হলে চুরি বন্ধ হবে, ভুয়ো ভোট বন্ধ হবে। বাংলায় কাউকে বাদ দিলে প্রতিবাদ করব আমরা।” তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের আসন্ন ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। তিনি একই সাথে সতর্ক করে দেন যে, যদি বাংলার কোনো প্রকৃত নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে বিজেপি তার তীব্র প্রতিবাদ করবে।
মিঠুন চক্রবর্তী এখানেই থামেননি। তিনি আরও উগ্র মেজাজে বলেন, “মার খেয়ে বাড়ি ফিরবেন না। পারলে মারবেন।” তাঁর এই ‘মারো’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাজ্যে মহিলাদের কোনো সুরক্ষা নেই।” বাইরের থেকে আসা মানুষদের প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা বাইরে থেকে এসেছে তারা কোথা থেকে এসেছে?” একই সাথে তিনি জানান যে, অভিনেতা হিসেবে তাঁর সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রয়েছে। হুমায়ুন কবীরের নতুন দল প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন যে, যে কেউ নতুন দল করতেই পারে, তাতে তাঁর কোনো সমস্যা নেই।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব:
তবে, মিঠুন চক্রবর্তীর এই মন্তব্যের তীব্র পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মিঠুনকে কটাক্ষ করে বলেন যে, মিঠুন একসময় তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ভয়ে তিনি তৃণমূল ছেড়েছেন। কল্যাণের অভিযোগ, “বাংলা মাটির সঙ্গে ওনার কোনো যোগ নেই।” তিনি আরও বলেন, “মিঠুনকে অভিনেতা হিসেবে সম্মান করি। পলিটিশিয়ান হিসেবে উনি একটা জোকার। উনি কোনো কিছু জানেন না। হঠাৎ করেই একদিন চলে আসেন।”
মিঠুন চক্রবর্তীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং তৃণমূলের পাল্টা জবাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং ‘বহিরাগত’ বিতর্ক নিয়ে আগামী দিনে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।