ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড, স্ত্রীকে খুন করে তিন দিন মৃতদেহের সঙ্গে একই ঘরে কাটালেন স্বামী

বেঙ্গালুরুর থানিসান্দ্রা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে এক যুবক তার স্ত্রীকে হত্যা করে টানা তিন দিন মৃতদেহের সঙ্গেই একই ঘরে কাটিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে হেন্নুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম শিবম, পেশায় একজন রঙের মিস্ত্রি। তিনি উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। স্ত্রী সুমনার সঙ্গে গত ছয় মাস আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তাঁরা কাজের সূত্রে কর্ণাটকের থানিসান্দ্রা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন। প্রাথমিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও, গত ২১শে জুলাই রাতে এই দম্পতির মধ্যে বিবাদ শুরু হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঘটনার রাতে শিবম মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বিবাদের এক পর্যায়ে তিনি সুমনাকে নির্মমভাবে মারধর করেন। মারের চোটে সুমনার নাক ও মুখ থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। ঝগড়ার পর শিবম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন। এই সময়ের মধ্যেই সুমনা প্রাণ হারান।

প্রথমদিকে শিবম নাকি স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তিনি মনে করেছিলেন, সুমনা কেবল ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। এরপরও তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এমনকি, স্ত্রীর মৃতদেহের পাশেই বসে তিনি মদ পান করেন এবং রান্নাও করেন।

তিন দিন ধরে মৃতদেহ ঘরে থাকায় পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এতে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। গন্ধ তীব্র হওয়ায় ঘরের মালিক রবি, গত ২৩শে জুলাই ভাড়ার টাকা চাইতে এসে শিবমের ঘরে প্রবেশ করেন। তখনই তিনি পচা গন্ধ পান এবং ঘরের ভেতরে সুমনার মৃতদেহ দেখতে পান। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে হেন্নুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁরা সুমনার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আম্বেদকর হাসপাতালে পাঠান। একই সাথে, পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এরপর উত্তরপ্রদেশে পালানোর সময় ইয়ালাহাঙ্কা এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিবমকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ এখন অভিযুক্ত শিবমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সমাজের উপর এক গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে এনেছে।