ছাত্রীকে ‘প্রেমের প্রস্তাব’ অধ্যাপিকার, সমকামিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মানসিক হেনস্থার শিকার! চাঞ্চল্য আরামবাগ কলেজে

হুগলির আরামবাগ নেতাজি মহাবিদ্যালয়ে এক সংগীত বিভাগের অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে তাঁর প্রাক্তন ছাত্রীকে সমকামিতার প্রস্তাব দেওয়া এবং তাতে রাজি না হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শিক্ষামহল ও জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

প্রাক্তন ছাত্রীর গুরুতর অভিযোগ
অভিযোগকারী প্রাক্তন ছাত্রী দাবি করেছেন, কলেজে পড়াশোনা চলাকালীন অধ্যাপিকা তার প্রতি ‘অস্বাভাবিক আবেগ’ প্রকাশ করতে শুরু করেন এবং দিনের পর দিন সমকামিতা সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিতে থাকেন। ছাত্রী জানান, অধ্যাপিকা প্রথমে তার সাথে বন্ধুত্ব পাতান এবং পরে তাদের বাড়ির দোতলায় একটি ঘর ভাড়া নেন। এরপর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ছাত্রীর অভিযোগ, অধ্যাপিকা তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করলে শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। ছাত্রী আরও দাবি করেছেন যে, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর অধ্যাপিকা তাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন, ভয় দেখান এবং এমনকি আত্মহত্যার হুমকিও দেন। অধ্যাপিকার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রী নিজেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।

কলেজ ছাড়ার পরও থামেনি হেনস্থা
এই প্রাক্তন ছাত্রী পড়াশোনা শেষে অন্য একটি কলেজে চলে গেলেও, তার ওপর হেনস্থার চাপ এখনো থামেনি বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার প্রভাব ছাত্রীর পড়াশোনার ওপরও পড়ছে।

গত জুন মাসেই ওই প্রাক্তন ছাত্রী আরামবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তখন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পরিবারের। কিন্তু সম্প্রতি ওই একই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে আরেক ছাত্রী হেনস্থার অভিযোগ করলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল ওই অধ্যাপিকা অন্য এক ছাত্রীকে প্রায় এক ঘণ্টা অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে।

তদন্ত শুরু, নীরব অভিযুক্ত
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, “ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষিকার এমন জোর করে চাপ সৃষ্টি করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।” যদিও অভিযুক্ত অধ্যাপিকা এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানাননি।

পুলিশ সূত্রে খবর, আরামবাগ থানা এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের পবিত্রতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।