জলবন্দি মহেশতলা! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা, রাস্তা অবরোধ করে তাণ্ডব

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় জলযন্ত্রণা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে এলাকার একাধিক রাস্তা হাঁটুজলে ডুবে রয়েছে, যার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। আজ সকালে ক্ষুব্ধ জনতা হাতে কোদাল, বাঁশ এবং ছাঁকনি জাল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে এবং স্বয়ং রাস্তা কেটে জল বের করার চেষ্টা করে অবরোধ শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বচসা হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বেশ কিছুদিন ধরেই মহেশতলার বিভিন্ন এলাকায় নিকাশির সমস্যা চরমে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায় এবং সেই জল নামতে দীর্ঘ সময় নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সমস্যা সমাধানের জন্য বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এরই ফলস্বরূপ, আজ সকালে যখন দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম ব্যাঘাত ঘটল, তখন স্থানীয়রা আর চুপ করে থাকেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই মহেশতলার রবীন্দ্রনগর সহ বেশ কিছু এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি ছিল। স্কুল-কলেজ বা কর্মস্থলে যেতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। এরপরই এলাকার মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংগঠিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল কোদাল ও বাঁশ, যা দিয়ে তাঁরা রাস্তার পাশের নালা এবং পাইপলাইন পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিছু জায়গায় তো তাঁরা রাস্তাই কেটে দেন, যাতে জমা জল দ্রুত নেমে যেতে পারে।

এলাকায় চরম উত্তেজনা থাকায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের সমস্যার সমাধানে আগ্রহী না হয়ে বরং তাঁদের প্রতিবাদ বন্ধ করতে চাইছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই পরিস্থিতি চলে। এলাকার মানুষজন প্রশাসনের কাছে দ্রুত নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানিয়েছেন, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনা আবারও শহরের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার এক করুণ চিত্র তুলে ধরল।