“তৃণমূলে রসদ কমছে তাই চোর বাড়ছে”- শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ অধীর চৌধুরীর, ‘অপরাধী-শ্রী’ প্রকল্পের ব্যঙ্গ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির প্রশ্নে আবারও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
“তৃণমূলে রসদ কমছে তাই চোর বাড়ছে”
অধীর চৌধুরী তাঁর চিরাচরিত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “তৃণমূলে রসদ কমছে তাই চোর বাড়ছে।” তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি শাসকদলের আর্থিক দুর্বলতা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় দুর্নীতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তৃণমূলের ক্ষমতা এবং অর্থের উৎস শুকিয়ে আসছে বলেই তাদের নেতারা আরও বেশি করে দুর্নীতির পথে পা বাড়াচ্ছেন।
‘অপরাধী-শ্রী’ প্রকল্পের ব্যঙ্গ
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অপরাধ এবং দুর্নীতির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যঙ্গ করে অধীর চৌধুরী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ‘অপরাধী-শ্রী’ নামে একটি প্রকল্প চালু করতে পারেন।” তাঁর এই বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য শাসকদলের উপর চাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি সরাসরি রাজ্যের অপরাধ দমনের ব্যর্থতা এবং অপরাধীদের প্রতি সরকারের নমনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে।
“মুখ্যমন্ত্রী নিজেই না পাচার হয়ে যান” – কড়া হুঁশিয়ারি
বাংলায় পাচারকারীদের দাপট নিয়ে বলতে গিয়ে অধীর চৌধুরী আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “বাংলায় এত পাচারকারীদের দাপট, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই না পাচার হয়ে যান!” তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারি রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা এবং পাচারচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাশাপাশি, এটি মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেয়।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্যগুলি রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিজেপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ বলে পাল্টা আক্রমণ করা হয়েছে।
সামনের দিনে অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্যগুলি রাজ্য রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এবং তৃণমূল কংগ্রেস এর কী জবাব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।