বজ্রপাতে বিদ্ধ দুই বাংলা, বর্ধমান ও বাঁকুড়ায় মৃত্যু ১১, আহত ৭; বর্ষার শুরুতেই কৃষকদের জীবনে দুর্যোগ

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিতে ভয়াবহ আকার ধারণ করল বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলা। পৃথক পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুই জেলা মিলিয়ে মোট ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ জন আহত হয়েছেন। মাঠে চাষের কাজ করার সময় বাজ পড়ে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলি ঘটেছে, যা বর্ষার শুরুতেই কৃষকদের জীবনে নেমে আসা চরম দুর্যোগের চিত্র তুলে ধরেছে।

বর্ধমানে ৫ জনের মৃত্যু, ৫ জন আহত
এদিন দুপুরে আকাশ কালো করে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহযোগে বৃষ্টির মাঝেই বর্ধমানের মাধবডিহি, রায়না, মঙ্গলকোট ও আউশগ্রাম এলাকা থেকে মৃত্যুর খবর মিলেছে:

সনাতন পাত্র (৬০): মাধবডিহি থানার আলমপুর গ্রামে জমিতে চাষ করার সময় বাজ পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মাধবডিহি গ্রামের বাসিন্দা।

অভিজিৎ সাঁতরা (২৫): রায়না থানার তেণ্ডুলে তাঁর বাড়ি। জমিতে চাষ করার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

বুড়ো মাড্ডি (৬৪): মঙ্গলকোটের চানক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষ্ণপুরে তাঁর বাড়ি। জমিতে চাষ করার সময় বাজ পড়ে তিনি মারা যান।

পরিমল দাস (৩৫): মাধবডিহি থানার শেরপুরে জমিতে চাষ করার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি খণ্ডঘোষ থানার মুইধারার বাসিন্দা।

রবীন টুডু (২৫): আউশগ্রাম থানার দিয়াশা হাটমারা মাঠে চাষের কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আউশগ্রাম থানার বেলাড়ি তাঁতপুকুর এলাকার বাসিন্দা।

এছাড়া, ভাতারের ভূমশোড় এলাকায় জমিতে চাষ করার সময় বাজ পড়ে চার জন আহত হয়েছেন এবং মাধবডিহি থানার শেরপুরে জমিতে চাষের কাজ করার সময় আরও একজন আহত হয়েছেন।

বাঁকুড়ায়ও ৫ জনের প্রাণহানি, ২ জন আহত
বর্ধমানের পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলাতেও বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আকাশ ছেয়ে যায় ঘন কালো মেঘে এবং ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। এই প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহযোগে বৃষ্টির মাঝেই বাঁকুড়ার কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস ও পাত্রসায়র থানা এলাকায় পৃথক পৃথক বজ্রপাতের ঘটনাগুলি ঘটে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিলই। সেই পূর্বাভাস মোতাবেকই এদিন দুপুরের পর এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলি ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে একইদিনে এতগুলি প্রাণহানি আবারও বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে জোরালোভাবে সামনে এনেছে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণিত হলো।