উত্তর কলকাতা বিজেপিতে কোন্দল চরমে, তমোঘ্নকে সরিয়ে তাপস রায়কে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব, অন্তর্ঘাতের অভিযোগ

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে ‘অন্তর্ঘাতে’র অভিযোগের জেরে এবার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হলো উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষকে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) হরিয়ানা ভবনে আয়োজিত এক সাংগঠনিক বৈঠকে তাপস রায়কে এই গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাগুরু তথা বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মিঠুন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
তাপস রায়ের হাতে গুরুদায়িত্ব, প্রশ্নের মুখে তমোঘ্ন
সল্টলেকে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকেই বিজেপি নেতা তাপস রায়কে এই বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে উত্তর কলকাতার ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষকে এই দায়িত্ব না দিয়ে তাপস রায়কে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তর কলকাতা বিজেপিতে ব্যাপক ডামাডোল শুরু হয়েছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, উত্তর কলকাতা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসে’র অভিযোগ উঠেছে উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখেই কেন্দ্রের তরফে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কারিগর ও বিজেপি নেতা তাপস রায়কে উত্তর কলকাতার ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে।
আদি-নব্য দ্বন্দ্বের প্রতিফলন?
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতা থেকে পদ্মের প্রার্থী হয়েছিলেন তাপস রায়। কিন্তু জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষকে বাদ দিয়ে কেন তাপস রায়কে এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে উত্তর কলকাতা বিজেপির তাপস ও তমোঘ্ন – এই দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে।
যদিও তমোঘ্ন শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তমোঘ্নর যোগাযোগের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে তাপস রায়কে জেতানোর জন্য তমোঘ্ন ঘোষ বহু কাজ করেছেন। তবে, আদি বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ নাকি কখনও চায়নি তাপস রায় দলে এসেই টিকিট পেয়ে জিতে যান। এই সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে এখন উত্তর কলকাতার ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি উত্তরের গেরুয়া শিবিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকা ও বিজেপির চ্যালেঞ্জ
দলের সকল স্তর থেকে বারবার অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একসঙ্গে সাংগঠনিক কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, আদি-নব্য দ্বন্দ্ব বারবার নির্বাচনী ফলের ক্ষেত্রে পদ্ম শিবিরের কাছে কাঁটা হয়ে উঠেছে। মিঠুন চক্রবর্তীকে নিজেদের সাংগঠনিক কাজে আরও সক্রিয় করে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ময়দানে নামিয়ে বিজেপি নতুন-পুরনো ঝগড়া কাটিয়ে নির্বাচন সফলভাবে উৎরাতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মিঠুন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে তাপস রায়কে এই দায়িত্ব দেওয়া, উত্তর কলকাতা বিজেপিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যার ফল আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।