মহানায়ক সম্মান পেলেন কারা? দেখেনিন এবারের পুরুস্কারের তালিকায় কাদের নাম?

মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করল রাজ্য। তাঁর স্মৃতিকে অটুট রাখতে এবং বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য শিল্পীদের সম্মানিত করতে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন বহু চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে শিল্পীদের হাতে ‘মহানায়ক’ সম্মান তুলে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলা চলচ্চিত্রে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ‘মহানায়ক শ্রেষ্ঠ সম্মান’ পেলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ। এছাড়াও ‘মহানায়ক’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় মেকআপ ও প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী ও রূপঙ্কর বাগচী, অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী এবং প্রোডাকশন ডিজাইনার আনন্দ আঢ্য। তাঁদের এই স্বীকৃতি বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁদের অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিল।

নতুন উদ্যোগ ও বাংলা সিনেমার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বাংলার সঙ্গীত একাডেমি তৈরি হয়ে গেছে এবং খুব শীঘ্রই তার উদ্বোধন হবে। পাশাপাশি, এবছরের টেলি একাডেমি পুরস্কার অনুষ্ঠানও দ্রুত আয়োজনের কথা বলেন তিনি। ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারপার্সন পদে এবারও গৌতম ঘোষই থাকছেন বলে নিশ্চিত করেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলা সিনেমাকে অবহেলা না করার এবং বাংলা গানের শিল্পীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একটি অভিনব উদ্যোগের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “প্রসেনজিৎ একটা ভাল আইডিয়া করেছে, একটা মডেল করেছে। অফিসাররা দেখে এসে আমায় জানিয়েছে। আমাদের ভাল লেগেছে মডেলটা।” এই মডেল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, “প্রায় ১০০টা জায়গায় ৪০-৫০ জন বসার মতো একটা সিনেমা ঘর তৈরি করছে (প্রসেনজিৎ)। মডেলটা দেখে খুশি হয়েছি আমরা। এটা হলে বুথ স্তরে, তৃণমূল স্তরে, প্রত্যন্ত গ্রামে সিনেমাগুলি দেখতে পাবেন সকলে। সিনেমার চাহিদা বাড়বে, ওরা যে সিনেমাগুলি তৈরি করে, তার মার্কেট পাবে। কর্মসংস্থান হবে।” এই উদ্যোগ বাংলা চলচ্চিত্রকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা বিনোদন জগতের নিয়মিত দর্শক হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেগা সিরিয়ালগুলির বর্তমান প্রবণতা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কিছু ধারাবাহিক সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিরক্তি প্রকাশ করে নির্মাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখন দেখি সিরিয়ালগুলোতে শুধু এ ওকে বিষ দিচ্ছে। একটা পরিবারে তিনজন ঝগড়া করছে। বাজে বাজে জিনিসগুলো শেখাচ্ছে। এতে সমাজে বাচ্চারা ভুল করছে। অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। দয়া করে খারাপ কিছু শেখাতে যাবেন না। সিরিয়াল বাড়াতে হবে বলে রোজ গুণ্ডামি দেখানো হচ্ছে। কত ভাল জিনিস আছে। বাড়ান সে সব জিনিস দিয়ে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সারাদিন আমরা এত কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকি, আবার টেনশন করব? ওটা টেনশন নয়, রিল্যাক্সসেশনের জন্য। এটা তৈরি করতে হবে, এসব মাথায় রেখে।” সামাজিক যে গল্প সংস্কৃতিকে ভালোবাসে, যে গল্প মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে সেই গল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন মমতা। সেই সঙ্গে তিনি সিরিয়ালে বাংলা গানকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা বাংলা টেলিভিশন শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং তার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।