বাঁকুড়ার উপরশোলে ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, নগদ ৭ লক্ষ টাকা ও গয়না লুঠ, গ্রামে চাঞ্চল্য

বাঁকুড়া সদর থানার উপরশোল গ্রামে আবারও ঘটল এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। বুধবার (২৩শে জুলাই) রাতে ফাঁকা বাড়ির তালা ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার গয়না লুঠ করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
আত্মীয়ের অসুস্থতা, ফাঁকা বাড়ি, আর চুরির সুযোগ
জানা গেছে, উপরশোল গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপ রায়, যিনি পেশায় একজন কৃষক, সম্প্রতি নিজের জমি বিক্রি করে প্রায় সাত লক্ষ টাকা ঘরের আলমারিতে রেখেছিলেন। এই নগদ টাকার পাশেই রাখা ছিল পারিবারিক অলঙ্কার।
বুধবার রাতে সন্দীপবাবু তাঁর এক নিকট আত্মীয়ের গুরুতর অসুস্থতার খবর পান। সেই কারণে পরিবারের সকলকে নিয়ে ঘর তালা বন্ধ রেখে আত্মীয়কে দেখতে যান। এই সুযোগকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। ফাঁকা বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এবং আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান অলঙ্কার লুঠ করে চম্পট দেয়।
সকালে জানাজানি, পুলিশের তদন্ত শুরু
বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দীপবাবুর ঘরের দরজার তালা ভাঙা দেখে সন্দেহ করেন। চুরি হয়েছে বুঝতে পেরেই তাঁরা দ্রুত বাঁকুড়া সদর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
গৃহবধূ রুমা রায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের এলাকায় চুরি হতেই থাকে। এটা আমাদের নতুন বাড়ি। বুধবার রাতে ফাঁকা ছিল। আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছিলাম। ঘর ফাঁকা থাকার জন্য এই ঘটনা ঘটেছে।” তার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, এলাকায় চুরির ঘটনা নতুন নয় এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অনিরাপত্তা ও আতঙ্কের ছায়া
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এই ঘটনা আবারও বাঁকুড়া সদর থানার উপরশোল গ্রামের নিরাপত্তার প্রশ্নটি তুলে ধরল। দিনের পর দিন চুরির ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পুলিশ কবে এই চক্রকে ধরতে পারে এবং এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।