চন্দননগর কর্পোরেশনে ধুন্ধুমার, বিজেপির বিক্ষোভে ভাঙল গেট, মেয়রের দফতরে ‘চোর চোর’ স্লোগান

বৃহস্পতিবার দুপুরে চন্দননগর কর্পোরেশন চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হলো বিজেপির এক প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে। শহরের বেহাল দশা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতিসহ ৭ দফা দাবিতে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে কর্পোরেশনের গেটের সামনে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে তাদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এই ঘটনায় কর্পোরেশনের প্রধান গেট ভেঙে যায় এবং বিজেপি কর্মীরা সরাসরি মেয়রের দফতরে ঢুকে পড়েন।
গেট ভেঙে দফতরে প্রবেশ, ‘চোর চোর’ স্লোগান
জানা গেছে, এদিন দুপুর নাগাদ চন্দননগর দক্ষিণ মন্ডলের সভানেত্রী সুনন্দা সাহার নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। তাদের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল শহরের বেহাল রাস্তাঘাটের দ্রুত সংস্কার, উপযুক্ত জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতির তদন্ত ও স্বচ্ছতা আনা, এবং বেআইনি পুকুর ভরাট বন্ধ করা।
মিছিলটি কর্পোরেশনের প্রধান গেটের সামনে পৌঁছলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। অভিযোগ, পুলিশ গেট আটকে দিলে বিজেপি কর্মীরা গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, যার ফলে কর্পোরেশনের ভারী প্রধান গেটটি ভেঙে পড়ে। গেট ভেঙে যাওয়ার পর উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরা সোজা মেয়রের দফতরে প্রবেশ করেন। তবে সেই সময় মেয়র তাঁর চেম্বারে উপস্থিত ছিলেন না। মেয়রের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা দফতর চত্বরে দাঁড়িয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, হুঁশিয়ারি বিজেপির
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং আইসি-র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের কর্পোরেশন চত্বর থেকে বের করে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চন্দননগর দক্ষিণ মন্ডলের সভানেত্রী সুনন্দা সাহা সাংবাদিকদের জানান, এক সপ্তাহ আগেই তারা মেয়রকে এই ৭ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের দাবিগুলি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বিজেপি আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
এই ঘটনায় চন্দননগর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্পোরেশন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালো এবং শাসকদল ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।