আকস্মিক পদত্যাগে উপরাষ্ট্রপতি ধনকড়, শূন্য পদ পূরণে কোন অঙ্ক কষছে বিজেপি?

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সকলের মনেই এখন দুটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে – এই পদত্যাগের পেছনের আসল কারণ কী, এবং পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি কে হতে চলেছেন? বিজেপির অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই এই পদ পূরণের অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গেছে বলে খবর।
পদত্যাগের নেপথ্যে রহস্য:
আচমকা এই পদত্যাগ বহু জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি, তবে সূত্রের খবর, পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘অসন্তুষ্টির’ কথা জানিয়েছিলেন। এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, এটি পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদীয় কার্যকলাপ বা কোনো নীতিগত বিষয়ে মতবিরোধই এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে।
বিজেপির কৌশল: শরিক নয়, নিজেদের আস্থাভাজন?
প্রাথমিকভাবে জল্পনা ছিল যে, এনডিএ-র কোনো বর্ষীয়ান শরিক নেতা উপরাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্ব পেতে পারেন, যা জোটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। কিন্তু গেরুয়া শিবির থেকে আসা সাম্প্রতিক ইঙ্গিতগুলি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। সূত্র মতে, এবার উপরাষ্ট্রপতির মতো গুরুদায়িত্বে কোনো শরিক নেতাকে নয়, বরং বিজেপিরই শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো সদস্যকে বসানো হবে। এই পদে এমন কাউকে আনা হবে যিনি সরাসরি বিজেপির মূল ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত এবং দলের সম্পূর্ণ আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ।
পূর্বে রাজ্যসভার ডেপুটি স্পিকার হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল। বিহার নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নীতীশ কুমার বা জেডিইউ নেতা রাম নাথ ঠাকুরের নাম নিয়েও আলোচনা চলছিল। তবে বিজেপির অন্দরমহলের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের মতো অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ শরিকদের হাতে ছাড়তে নারাজ দল। সংসদীয় রাজনীতিতে এই পদের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম, যা বিজেপি নিজের হাতেই রাখতে চায়।
নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা:
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি পদ খালি রাখা যায় না, তাই দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা আবশ্যিক। সেই লক্ষ্যে বুধবারই নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে। শীঘ্রই নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ গঠন করা হচ্ছে। এই ইলেক্টোরাল কলেজই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বর্তমানে রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের কাজ চলছে। একইসঙ্গে, অতীতের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছ ও দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।
ধনকড়ের আকস্মিক পদত্যাগ এবং পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দিল্লির রাজনীতিতে এখন নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বিজেপি কাকে এই গুরুদায়িত্বের জন্য বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার। এই সিদ্ধান্ত শুধু পদাধিকারী নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ শক্তি কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি ইঙ্গিত দেবে।