বাড়িতে বসেই উপার্জনের বড় সুযোগ, LIC নিয়ে এলো মেয়েদের জন্য বিশেষ স্কিম

দেশের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং আর্থিক স্বাধীনতা এনে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি যুগান্তকারী প্রকল্প চালু করেছে – ‘এলআইসি বিমা সখী যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলাকে বিমা এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের শুধু কর্মসংস্থানই দিচ্ছে না, বরং সমাজে তাঁদের একটি নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করতে সাহায্য করছে। এই উদ্যোগের ফলে মহিলারা প্রতি মাসে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন।
‘বিমা সখী যোজনা’র মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। এই প্রকল্পের আওতায়, মহিলারা এলআইসি-র বিমা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে শুরু করা হয়েছে। এই স্কিমে যোগ দেওয়া মহিলাদের প্রথমে তিন বছরের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেখানে তাঁদের বিমা সংক্রান্ত বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের প্রথম বছরে তাঁরা মাসে ৭০০০ টাকা, দ্বিতীয় বছরে ৬০০০ টাকা এবং তৃতীয় বছরে ৫০০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড পান। এর পাশাপাশি, বিমা পলিসি বিক্রি করার জন্য তাঁরা কমিশনও পান, যা তাঁদের আয়ের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তোলে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী মহিলারা আবেদন করতে পারেন। দশম শ্রেণি পাশ মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভালো ফল করা মহিলারা ইনসেনটিভও পেয়ে থাকেন। প্রশিক্ষণ শেষে, ভালো কর্মক্ষমতা সম্পন্ন নারীরা শিক্ষানবিশ উন্নয়ন কর্মকর্তা (ADO) পদে আবেদন করতে পারেন, তবে এর জন্য স্নাতক হওয়া আবশ্যিক। এলআইসি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের মধ্যে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে এই প্রকল্পটি দেশের প্রতিটি গ্রামে পৌঁছে দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ জীবনে প্রভাব
‘বিমা সখী যোজনা’র মাধ্যমে মূলত সেইসব মহিলাদের উপকার হবে, যারা সাধারণত গৃহস্থালির কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। এই প্রকল্পের সাহায্যে তাঁরা এখন নিজেদের গ্রামে বসেই কাজ করতে পারবেন, যা তাঁদের পরিবারে আর্থিক অবদান রাখতে এবং নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
আগ্রহী মহিলারা এই প্রকল্পের জন্য এলআইসি-র স্থানীয় অফিস অথবা সংস্থার ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে, সরকার নারীদের কেবল কর্মসংস্থানই নয়, বরং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক ক্ষমতায়নের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে।