ইস্তফা দিয়েই সবকিছু গোটাচ্ছেন ধনখড়, খুব শিগগিরই ছেড়ে দেবেন উপরাষ্ট্রপতি ভবনও

ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা রীতিমতো চমকে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলকে। সোমবার রাতেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। প্রকাশ্যে স্বাস্থ্যের কারণ দেখালেও, বিরোধীদের অভিযোগ—সরকারের চাপেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ধনখড়। পরিস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়েছে।

সূত্রের খবর, পদত্যাগের আগেই নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করেন ধনখড়। মঙ্গলবার তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পর, উপরাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত। তবে, তিনি ভবিষ্যতে সরকারি বাংলো পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ তাঁর মেয়াদ ২০২৭ পর্যন্ত থাকলেও, তার অনেক আগেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলা, রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট

বিশেষত নজরকাড়া বিষয় হল, পদত্যাগের আগে ও পরে বহু রাজনৈতিক নেতা ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও, তিনি সময় দেননি। সূত্রের দাবি, বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ারও ধনখড়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে সাড়া মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে ধনখড় এখন সব পক্ষ থেকেই দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন।

চর্চার কেন্দ্রে ‘বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টে’র সময়টুকু

ঘটনার আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—সোমবার দুপুরে সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে ধনখড় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বিকেল ৪টেয় নির্ধারিত বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত থাকেন, এবং রাতেই রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো চিঠিতে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। এই সময়ের মধ্যেই কী এমন হল, যা তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করল? কংগ্রেসের দাবি, এই সময়েই কোনও চাপ বা সিদ্ধান্ত এসেছে শাসক পক্ষ থেকে, যা ধনখড়কে এই পথ নিতে বাধ্য করেছে।

পদত্যাগের পরও মিলবে একাধিক সরকারি সুবিধা

যদিও তিনি পদ ছেড়ে দিয়েছেন, তবুও প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতির স্বত্ব অনুযায়ী, বেশ কিছু সুবিধা পাবেন জগদীপ ধনখড়। এর মধ্যে রয়েছে:

পেনশন এবং বাসস্থানের সুবিধা (সরকারি বা বিকল্প ব্যবস্থা),

দু’জন সহকারী ও দু’জন পিয়নসহ একটি কর্মী দল,

একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক,

অফিস পরিচালনার জন্য ৬০,০০০ টাকা বার্ষিক বরাদ্দ,

বিনামূল্যে জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা,

একজন সঙ্গী বা আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে যেকোনও স্থানে বিনামূল্যে বিমান বা রেলযাত্রার সুবিধা।

শেষ কথা

ধনখড়ের পদত্যাগ স্বাভাবিক কিনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক চালচিত্র—তা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিতর্ক, তদন্ত ও জল্পনা চলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিজেপি এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও, বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সংসদেও সরব হতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে।

Ask ChatGPT

Editor001
  • Editor001