‘ধনখড় সংবিধান মেনে কাজ করেন’-ইস্তফা ইস্যুতেও বিস্ফোরক দাবি মিমিক্রি করা কল্যাণের

দেশের রাজনীতির আঙিনায় এখন উত্তাল এক প্রশ্ন—হঠাৎ করে কেন ইস্তফা দিলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়? শারীরিক অসুস্থতা—এই ছিল সরকারি ব্যাখ্যা। কিন্তু এর আড়ালে কি লুকিয়ে রয়েছে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক নাটক?
এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ধনখড়কে উপরাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে—শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশ অমান্য করার জন্য।
❝সংবিধান মানায় শাস্তি?❞ — কল্যাণের বিস্ফোরক বক্তব্য
কল্যাণের ভাষায়, “জগদীপ ধনখড় সংবিধান মেনে চলতেন। মোদী চান না কেউ তা করুক। তাই তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। রাজনাথ সিংকে ‘সাইডলাইন’ করতেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
শুধু তাই নয়, কল্যাণ জানান, ৫০ জন সাংসদকে রাজনাথ সিংয়ের ঘরে বসিয়ে ইমপিচমেন্টে সই করানোর চেষ্টা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মমতার পর্যবেক্ষণেও রহস্যের গন্ধ
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ধনখড় একদম সুস্থ। অসুস্থতা ইস্তফার কারণ নয়।” মমতার মন্তব্য, কল্যাণের বক্তব্য এবং একাধিক সূত্র একসঙ্গে রাখলে স্পষ্ট, একটি গভীর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়া রয়েছে এই পদত্যাগের পেছনে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ধনখড়ের উপস্থিতি
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফার দিন অর্থাৎ সোমবার দুপুরে রাজ্যসভার বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে ছিলেন ধনখড়। বিকেলে দ্বিতীয় বৈঠকে তাঁকে দেখা যায়নি। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে ধনখড় নিজেও জানতেন না যে বিজেপি নেতারা, যেমন জে.পি. নাড্ডা ও কিরেন রিজিজু, উপস্থিত থাকবেন না।
অতীতের বিতর্ক ও বর্তমানের সমর্থন
জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে এক সময় প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদের বাইরে তাঁর মিমিক্রি করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেই কল্যাণই প্রকাশ্যে ধনখড়ের পক্ষ নিয়েছেন, যা রাজনীতির পালাবদলের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।