বিশেষ: ২৭ বছরের বড় মন্ত্রীর প্রেমে ঘর ছাড়েন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, বর্তমানে তিনি কোটিপতি

দক্ষিণী সিনেমার এক সময়ের আলোচিত নাম রাধিকা কুমারস্বামী। কন্নড় চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত এই অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি এখন চর্চার কেন্দ্রে রয়েছেন তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য। কারণ, তিনি শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই নন—তিনি কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ.ডি. কুমারস্বামীর স্ত্রীও।
২০০৬ সালে ৩৭ বছরের এইচ.ডি. কুমারস্বামীকে গোপনে বিয়ে করেন রাধিকা, যিনি তখন মাত্র ২০ বছরের। বয়সের ২৭ বছরের ব্যবধান, কুমারস্বামীর আগের বিবাহিত জীবন এবং রাধিকার নিজের প্রথম বিয়ে—সব মিলিয়ে এই সম্পর্ক নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয় রাজনীতি ও ফিল্মি দুনিয়ায়।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, দু’জনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। রাধিকার প্রথম বিবাহ হয়েছিল ২০০০ সালে, যা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কুমারস্বামীর প্রথম স্ত্রী অনিতা, যাঁর সঙ্গে ১৯৮৬ সাল থেকে বিবাহিত সম্পর্ক বজায় ছিল।
পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে প্রেমের জয়
রাধিকার বাবা এই বিয়ের ঘোরতর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ভালোবাসার কাছে হার মেনেছিল পারিবারিক আপত্তি। পরিবারের অমতেই রাধিকা বেছে নিয়েছিলেন নিজের পথ। প্রেম ও আত্মবিশ্বাসের জোরে রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী করে নিয়েছিলেন।
ছোটবেলার তারকা থেকে বড় পর্দার বিদায়
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘নীনাগাগি’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন রাধিকা। নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করার সময়েই তার তারকা জীবনের শুরু। ২০০২ সালে ‘নীলা মেঘ শামা’ ছবির মাধ্যমে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। এরপর একে একে প্রায় ৩০টি দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
তবে বিয়ের পরই অভিনয় জীবন থেকে সরে আসেন। পর্দার জীবন থেকে বিদায় নিয়ে পা রাখেন সিনেমার পর্দার পেছনে—একজন প্রযোজক হিসেবে।
ক্যামেরার পেছনে: প্রযোজনায় সফল অভিষেক
নায়িকা রাধিকা পরে রূপান্তরিত হন নির্মাতা রাধিকায়। প্রযোজক হিসেবে তার প্রথম ছবি ছিল ‘লাকি’। সময়ের সঙ্গে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।
সম্পদের দিক থেকেও নজরকাড়া
এখন রাধিকা শুধু একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী নন, তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালকিন। সরকারি নথি অনুযায়ী, রাধিকার মোট সম্পদের পরিমাণ ১২৪ কোটি টাকা, যেখানে তার স্বামী কুমারস্বামীর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৪ কোটি।
রাধিকা কুমারস্বামীর জীবন যেন এক বলিউড সিনেমার কাহিনি—যেখানে আছে প্রেম, বাধা, আত্মত্যাগ এবং নতুন পরিচয়ে নিজেকে গড়ে তোলা। পর্দা থেকে রাজনীতির ঘরনি হয়ে ওঠার এই যাত্রাপথে তিনি দেখিয়েছেন নারী মানেই শুধু নায়িকা নয়, ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনিই হতে পারেন নিজের জীবনের পরিচালকও।