সকালে হাঁটতে বেরিয়ে ফের ‘বিস্ফোরক’ দিলীপ! কাউকে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা, যা যা বললেন?

প্রতিদিনের মর্নিং ওয়াকের চিরাচরিত রুটিনে ফিরে এলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কিন্তু তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা মন্তব্যগুলি মোটেই ‘রুটিনমাফিক’ ছিল না। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন প্রকল্প এমনকি দলের অন্দরের গুঞ্জন—সবকিছু নিয়েই আজ তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলেছে।

‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ – নতুন প্রকল্পে দিলীপের কটাক্ষ:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্প্রতি ঘোষিত নতুন প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ নিয়ে দিলীপ ঘোষ তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “পাড়ায় পাড়ায় এত দুর্নীতি হয়েছে, তাই এই প্রকল্প কতটা কাজ করবে?” তৃণমূলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি করেছে। তাই এই প্রকল্প খুব একটা কাজ করবে না।” তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূলের ‘দুয়ারে সরকার’ বা ‘পাড়ায় সমাধান’ মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে।

‘বাঙালি’ ইস্যু ও অভিষেকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ:
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস ভিনরাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। এই ‘বাঙালি’ ইস্যু নিয়ে মমতাকে পাল্টা আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাঙালি বলে চিৎকার করছেন মমতা।” এখানেই না থেমে, তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “বাংলায় কি একটাও সুন্দরী মেয়ে নেই! যাকে ঘরের বউ করা যায়? বাড়িতে পঞ্জাবি বউ রাখব আর বাঙালি বাঙালি করব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে দিলীপ ঘোষ নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন বলে দিলীপ অনুগামীরা মনে করছেন, কারণ অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্জাবি পরিবারের সন্তান। এই ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এছাড়াও, তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে ‘লোক আনার’ এবং রাজ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা, যা বিজেপির দীর্ঘদিনের ‘অনুপ্রবেশ’ বিরোধী অবস্থানেরই প্রতিধ্বনি। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব (আসাম) ও সাকেত গোখলের (গুজরাট) মতো ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদের বাংলা থেকে সাংসদ করার বিষয়েও তিনি নিন্দা করেছেন, প্রশ্ন তুলেছেন – “বাংলায় কি কোনও যোগ্য ব্যক্তি নেই যাকে সাংসদ করা যায়?”

নিজের দলের অবস্থান: ‘দল যা বলবে, তাই করব’
দলের অন্দরের অবস্থান নিয়েও দিলীপ ঘোষ নিজের স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “দলই তাঁকে নেতা বানিয়েছে। দলের নির্দেশ মেনেই তিনি কাজ করবেন।” খড়গপুরের প্রার্থী ইস্যু নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য তাঁর প্রতি দলের আচরণ নিয়ে পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে। তিনি বলেন, “পার্টি আমাকে ৩ বার প্রার্থী করেছে। আমি টিকিট চাইনি। পদ চাইনি। তাও দিয়েছে। অমিত শাহ বলেছেন বড় নেতাদের ভোটে লড়তে হবে। আমি মাত্র ৬ মাস সভাপতি ছিলাম। পার্টি বলেছে বলে ভোটে লড়েছি। আমাকে তখন চয়েজ জিজ্ঞাসা করেছিল। আমি বিধানসভা ভোটে খড়গপুর চয়েজ করেছি। পরের বার আবার চয়েজ জিজ্ঞাসা করল। আমি মেদিনীপুর বলেছিলাম। দুবারই জিতেছি। লাস্ট বার আমাকে কেউ চয়েজ জিজ্ঞাসা করেনি। ফলাফল আপনারা দেখে নিয়েছেন।” এই মন্তব্যে তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু অসন্তোষের সুরও স্পষ্ট।

দিলীপ ঘোষের আজকের মন্তব্যগুলি কেবল তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক নয়, বরং তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলের মধ্যে তাঁর প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর এই ‘ঠোঁটকাটা’ মন্তব্যগুলি আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।