OMG! অঙ্কের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতল ডিপমাইন্ড, ‘ওপেনএআই’, চমকে গেল সকলে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা, ‘ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথ অলিম্পিয়াড’ (আইএমও)-এ স্বর্ণপদক জিতেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের ডিপমাইন্ডের তৈরি পরীক্ষামূলক এআই মডেল। যদিও চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই-ও তাদের মডেলের সাফল্যের দাবি করেছে, তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে কেবল ডিপমাইন্ড। এই অর্জনকে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (এজিআই) তৈরির পথে এক বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের সাড়ে চার ঘণ্টার কঠিন পরীক্ষায় গুগল ডিপমাইন্ডের এআই মডেলগুলো ছয়টি সমস্যার মধ্যে পাঁচটি সঠিকভাবে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। গুগল ডিপমাইন্ড এবং ওপেনএআই উভয় সংস্থাই দাবি করেছে যে, তাদের নবনির্মিত এআই মডেলগুলো যেভাবে জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান করছে, তা প্রমাণ করে যে তারা শক্তিশালী এআই তৈরির আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা মানুষের মতো চিন্তা করতে, শিখতে ও বিভিন্ন কাজ করতে পারবে। এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই নামে অভিহিত করা হয়।

আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও প্রশংসাপত্র
যদিও দুটি কোম্পানিই স্বর্ণপদক পাওয়ার দাবি করেছে, তবে শুধুমাত্র ডিপমাইন্ড-এর ফলাফলই আইএমও আয়োজকদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। কারণ, ওপেনএআই তাদের মডেল নিয়ে প্রতিযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি।

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের সভাপতি প্রফেসর গ্রেগর ডোলিনার বলেছেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, গুগল ডিপমাইন্ড প্রত্যাশিত এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। কোম্পানিটি মোট ৪২ পয়েন্টের মধ্যে ৩৫ পয়েন্ট পেয়েছে, যা স্বর্ণপদক পাওয়ার যোগ্য স্কোর।” তিনি আরও যোগ করেন, “এআই মডেলের এই সমাধানগুলো অনেক দিক থেকে চমকপ্রদ ছিল। আইএমও-এর মূল্যায়নকারীরা বলেছেন, এসব সমাধান স্পষ্ট, সঠিক ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুসরণ করাও সহজ।”

ভবিষ্যতের পথ ও মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি
গুগলের এআই স্টার্টআপ ডিপমাইন্ড-এর থাং লুয়ং ও এডওয়ার্ড লকহার্ট জানিয়েছেন, তাদের এআই মডেলের যৌক্তিক ভাবনার সক্ষমতা গণিতজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য গবেষকদের জন্য ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হবে। এটি ‘এজিআই তৈরির পথে মানুষের জ্ঞানকে এগিয়ে নিতে’ সাহায্য করবে বলেও তারা মনে করেন।

এদিকে, ওপেনএআইয়ের গবেষক অ্যালেকজান্ডার ওয়াই অনলাইনে এই প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমরা আমাদের বিভিন্ন এআই মডেলকে ২০২৫ সালের আইএমও প্রশ্ন দিয়ে ঠিক তেমনভাবেই পরীক্ষা করেছি যেভাবে মানুষ পরীক্ষায় অংশ নেয়। দুই দফায় সাড়ে চার ঘণ্টার পরীক্ষায় কোনো সাহায্যকারী যন্ত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়নি; এটি কেবল অফিসিয়াল প্রশ্নগুলো পড়েছে এবং সরল ভাষায় উত্তর ও প্রমাণ লিখেছে।”

অ্যালেকজান্ডার তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, “এটি একটি বড় ব্যাপার। প্রথমত, আইএমও-এর এই প্রশ্নগুলো আগের এআই পরীক্ষা বা মানদণ্ডগুলোর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। এসব সমস্যার সমাধানে কেবল গাণিতিক জ্ঞানই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করে সৃজনশীলভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয়। দ্বিতীয়ত, আমরা এমন একটি মডেল তৈরি করেছি, যা মানুষের মতো গণিতবিদদের স্তরে জটিল ও নিখুঁত যুক্তি তৈরি করতে পারে।”

আসন্ন মডেল ও প্রত্যাশা
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওপেনএআই তাদের ‘জিপিটি-৫’ মডেল চালিত চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ আনার পরিকল্পনা করছে। তবে ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংস্করণে কোম্পানিটির পুরস্কারজয়ী বটের মতো উন্নত যুক্তিবোধ সক্ষমতা থাকবে না। অন্যদিকে, ডিপমাইন্ড এখনো জানায়নি যে তারা কবে তাদের ‘জেমিনাই ডিপ থিংক’ নামের এআই মডেলটি প্রকাশ করবে। এই সাফল্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং মানুষের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এআইয়ের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।