বিশেষ: জীবনে সফল হতে চান?–তাহলে আজ থেকেই ব্যাড দিয়ে দিন অন্যের সাহায্যের আশা!

নতুন কোনো কিছু শুরু করার সময় চারপাশে সাহায্যকারীর অভাব প্রায়শই নজরে পড়ে। অনেকেই এই পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপনাকে সাহায্য করতে কেউ বাধ্য নয়। বরং সফল হতে হলে নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে।

কেন মানুষ আপনাকে সাহায্য করবে না?

আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার কাছে একটি অসাধারণ পরিকল্পনা আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাতে অন্যের কী লাভ? আমাদের চারপাশে যতই বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন থাকুক না কেন, দিনের শেষে আমরা আসলে একা। আমাদের নিজেদের স্বপ্ন এবং লক্ষ্য পূরণের দায়িত্ব একান্তই আমাদের।

অন্যরা আপনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না, কারণ আপনি এখনও আপনার পরিকল্পনাকে বাস্তবে প্রমাণ করতে পারেননি। মানুষ কেবল সুন্দর পরিকল্পনা দেখতে চায় না, তারা বাস্তবায়ন দেখতে চায়। আপনার নতুন ব্যবসায়িক ধারণায় কেউ বিনিয়োগ করবে না, যতক্ষণ না আপনি এর কার্যকারিতা ছোট আকারে হলেও প্রমাণ করে দেখাচ্ছেন।

পরিকল্পনা বোঝানোর দায় আপনারই

যদি আপনার পরিকল্পনা বা স্বপ্ন খুব ভালো এবং সম্ভাবনাময় হয়, তবুও অন্যরা হয়তো তা সহজে বুঝতে পারবে না। এই কারণে যদি আপনি কারও ওপর রাগ করেন বা তাকে মূর্খ ভাবেন, তবে আপনি নিজেই বড় মূর্খ। কারণ, আপনার পরিকল্পনা আপনি যেভাবে কল্পনা করতে পারছেন, অন্যরা ঠিক সেভাবে পারবে না—প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। যদি আপনার পরিকল্পনা অন্যের কাছে স্পষ্ট না হয়, তার মানে আপনার বোঝানোর ক্ষমতা ততটা ভালো নয়। মুখে কথা দিয়ে মানুষকে কোনো কিছু বোঝানো খুবই কঠিন একটি কাজ। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা, যেখানে আপনি যাকে বোঝাচ্ছেন, তার কল্পনাশক্তি ও বোঝার ক্ষমতাকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যের কোনো দায় পড়েনি কষ্ট করে আপনার পরিকল্পনা বুঝতে বসা। বোঝানোর পুরো দায়িত্ব আপনার।

নিজের পরিকল্পনা নিজেই বাস্তবায়ন করুন

এত ঝামেলায় না গিয়ে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের পরিকল্পনা নিজেই বাস্তবায়ন করা। ছোট করে হলেও যদি একটি ‘ডেমো’ বা নমুনা প্রকল্প তৈরি করে দেখাতে পারেন, তখন মানুষ বিষয়টি চোখের সামনে দেখে সহজেই আইডিয়াটা বুঝতে পারবে। তাদের আর কল্পনাশক্তি বা বুদ্ধি খাটাতে হবে না।

কেউ যদি আপনাকে সাহায্য করতে না চায়, তবে হতাশ না হয়ে একটু সময় নিয়ে আস্তে আস্তে একটি ডেমো প্রজেক্ট তৈরি করুন।

দক্ষতা ও সাফল্যই বয়ে আনবে সাহায্য

মনে রাখবেন, কোনো বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করলে এবং কিছু প্রাথমিক সাফল্য পেলে তখন অন্যরা নিজে থেকেই আপনার কাছে সাহায্য করতে চাইবে। নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্যের উপকার করার মতো মহামানবের সংখ্যা পৃথিবীতে সত্যিই খুব কম।

যৌবনে বেশিরভাগ মানুষই বড় সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ১ জনই সেই সাফল্য অর্জন করতে পারে। এর একটি বড় কারণ হলো, বেশিরভাগ মানুষই সাফল্যের জন্য অন্যের সাহায্যের ওপর বেশি নির্ভর করে। সফল মানুষেরা একদম শুরু থেকেই এই বাস্তবতা বোঝেন যে, নিজের কিছু না থাকলে অন্যের সাহায্য পাওয়া যায় না।

আপনি যদি যেকোনো বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন, তবে আপনার সেই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য অন্যরা আপনা-আপনিই আপনার কাছে আসবে। আর সেই সিঁড়ি ধরেই ধাপে ধাপে একজন মানুষ চূড়ান্ত সাফল্য পেতে পারে। সাধারণ মানুষ সারা জীবন অন্যের অপেক্ষায় থেকে ধীরে ধীরে তাদের কাজ করার আদর্শ সময়টা পার করে ফেলে। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তারা নিজেরা কোনো কিছুতেই অসাধারণ দক্ষ হয়ে উঠতে পারে না, আর তাই কেউ তাদের কাছে আসে না।

পৃথিবীর নিয়ম হচ্ছে ‘দেয়া-নেয়ার’ নিয়ম। আপনার যদি দেয়ার মতো কিছু না থাকে, তবে আপনাকেও কেউ কিছু দেবে না। সাধারণ মানুষ এই কঠিন সত্যিটা মেনে নিতে না পারলেও, সফল মানুষেরা এই ব্যাপারটি মাথায় রেখেই নিজেদের গড়ে তোলেন।

নিজের সমস্যা, নিজের সমাধান

আপনার সমস্যা আপনাকেই সমাধান করতে হবে। কেউ নিজে থেকে এসে আপনাকে উদ্ধার করবে না। কাজেই নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন আপনি নিজেই বড় সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন। তখন দেখবেন, সেই সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ আপনার কাছে আসছে।

এখানে একটি কথা মনে রাখবেন: প্রথমে হয়তো কেউ আপনাকে নিরাশ করেছিল, কিন্তু আপনার প্রাথমিক সাফল্য দেখে যদি সে ফিরে এসে আপনার সাথে কাজ করতে চায় – আবেগ বা রাগের বশে তাকে ফিরিয়ে দেবেন না। প্রথমে হয়তো সে আপনার আইডিয়া বুঝতে পারেনি, কিন্তু এখন যখন ফিরে এসেছে, তার মানে আইডিয়াটি সে বুঝতে পেরেছে এবং সে আন্তরিকভাবে আপনার সাথে কাজ করতে চায়। আর তার ফিরে আসা প্রমাণ করে যে, আপনার আইডিয়াটি সত্যিই ভালো ছিল; আপনি শুধু আগেরবার বোঝাতে পারেননি। এখন বাস্তবায়ন দেখে মানুষ আপনার সাথে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে। আর একবার যখন এটা শুরু হবে, তারপর আর আপনাকে পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।

নিজের দক্ষতা বাড়ান। সেই দক্ষতাকে প্রমাণ করুন। সাফল্য আপনার পেছনে ছুটবেই।