জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ভূমিধস, স্কুল ধসে প্রাণহানি, অমরনাথ যাত্রা স্থগিতজম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ভূমিধস, স্কুল ধসে প্রাণহানি, অমরনাথ যাত্রা স্থগিত

প্রবল বর্ষণের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। মা বৈষ্ণোদেবীর পবিত্র যাত্রাপথে ভূমিধসের ফলে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি, পুঞ্চে একটি সরকারি স্কুলে ধস নেমে এক ছাত্রের মৃত্যু এবং তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে অমরনাথ যাত্রাও স্থগিত রাখতে হয়েছে।

সোমবার সকালে মা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের যাত্রাপথে ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটে। কাত্রায় প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লে বহু মানুষ একটি শেডের নীচে চাপা পড়েন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে ধসের কারণে বৈষ্ণোদেবীর যাত্রাপথ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে পড়ছে।

জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ অব্যাহত। পুঞ্চ জেলায় একটি সরকারি স্কুলেও ধস নেমেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে, জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কের উধমপুর জেলার সামরোলি গ্রামের কাছে দেওয়াল ব্রিজের পাশে রবিবার সন্ধ্যায় ভূমিধস নামে। এর ফলে কাশ্মীর অভিমুখী রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, টানা ৩৬ ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টির কারণে সোমবার পর্যন্ত অমরনাথ যাত্রাও স্থগিত রাখা হয়েছে। গত ১৬ই জুলাই সন্ধ্যায় জে মোড় এলাকায় ভূমিধস নামায় বহু তীর্থযাত্রী আটকে পড়েছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে উত্তরাখণ্ডের ছয়টি জেলা, যথা – দেরাদুন, তেহরি, পৌড়ি, নৈনিতাল, চম্পাবত এবং উদম সিং নগরে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। সেখানে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগগুলি মোকাবিলায় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলি নিরন্তর কাজ করে চলেছে।