“খাবার ভালো নয়”-অনলাইনে নালিশ করতেই যাত্রীদের ধরে তুমুল মারধর

দূরপাল্লার ট্রেনে পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যায় রেলমন্ত্রী বা ভারতীয় রেলের এক্স হ্যান্ডলে অভিযোগ করে দ্রুত সমাধান পাওয়ার সুনাম রয়েছে ভারতীয় রেলের। যাত্রীর নাম, পিএনআর এবং ফোন নম্বর দিয়ে সমস্যা জানালে ট্রেন কর্মীরা দ্রুত যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তী বড় স্টেশনে ট্রেন থামলেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঘটনা এই সুনামের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ, দূরপাল্লার ট্রেনে পরিবেশন করা খাবারের মানে অসন্তুষ্ট এক যাত্রীকে @RailSeva-তে অভিযোগ দায়ের করার জেরে ট্রেনের প্যান্ট্রি-কর্মীরা হেনস্থা করেছেন।
যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:
ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ সবসময়ই যাত্রী নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপ (যার সত্যতা ‘Techinformetrix’ যাচাই করেনি) দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রেলের কয়েকজন প্যান্ট্রি বয় এক যাত্রীর সঙ্গে প্রথমে তুমুল বচসায় জড়িয়েছেন। কিছুক্ষণ পরেই তারা ওই যাত্রীকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে শুরু করেন। এই ঘটনাটি বীরাবল-জব্বলপুর সোমনাথ এক্সপ্রেসের একটি স্লিপার কামরার।
অভিযোগ ও প্যান্ট্রি কর্মীদের আগ্রাসন:
দিব্যগৌরব ত্রিপাঠী নামে যিনি এই ভিডিও পোস্ট করেছেন, তার অভিযোগ, সোমনাথ এক্সপ্রেসের স্লিপার কামরায় সেদিন যে খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল, তার মান অত্যন্ত খারাপ ছিল। যাত্রীরা তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু প্যান্ট্রি কর্মীদের উদাসীনতা দেখে বিরক্ত এক যাত্রী @RailSeva-তে অভিযোগ করেন। এর পরেই কামরায় হাজির হন কয়েকজন প্যান্ট্রি-কর্মী। তারা প্রথমে অভিযোগ করার জন্য ওই যাত্রীর উপরে চোটপাট করতে থাকেন এবং কিছুক্ষণ পরেই তাকে মারধর শুরু করেন।
রেল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও আইআরসিটিসি-র ব্যাখ্যা:
এই ঘটনা অবশ্য চাপা থাকেনি। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে রেলকর্তারাও বিষয়টি জানতে পারেন। এরপরে জব্বলপুর ও রাজকোটের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ যায়। অভিযোগ উঠেছে যে, প্যান্ট্রি-কর্মীদের হাতে যাত্রী-নিগ্রহের ঘটনা এই প্রথম নয়, গত কয়েক মাসে এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটেছে।
দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রীদের খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)-এর। সংস্থা জানাচ্ছে, প্যান্ট্রি-কর্মীরা সরাসরি রেলের কর্মী নন। তারা কোনো নির্দিষ্ট রুটে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার কর্মী। আইআরসিটিসি আরও জানিয়েছে যে, অতীতে খারাপ মানের খাবার পরিবেশন করার জন্য বহু ঠিকাদার সংস্থাকে ‘ব্ল্যাক লিস্ট’ করা হয়েছে। যাত্রীদের হেনস্থার বিষয়টি প্রমাণ হলে এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।
এই ঘটনা ভারতীয় রেলের যাত্রী পরিষেবা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।