উপরাষ্ট্রপতি ধনখড়ের পদত্যাগ! প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি সত্ত্বেও দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে

বিদায়ী উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে যখন দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডলে ধনখড়ের সুস্বাস্থ্য কামনা করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পোস্টে যদিও পদত্যাগের কারণ হিসেবে অসুস্থতার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু এর পেছনের ‘অন্য কোনো কারণ’ নিয়ে দেশব্যাপী জল্পনার অবসান হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, “শ্রী জগদীপ ধনখড়জি বিভিন্নভাবে দেশের সেবা করার অনেক সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ভারতের উপরাষ্ট্রপতিও হয়েছেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।” প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা প্রথাগত সৌজন্যমূলক হলেও, তা ধনখড়ের পদত্যাগের মূল কারণ সম্পর্কে কোনো নতুন তথ্য দেয়নি। উপরাষ্ট্রপতির দফতরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আর কোনো নতুন তথ্য দেওয়া হয়নি, ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নৈনিতালে অসুস্থতা ও বন্ধুত্বের আবেগ:
তবে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ২৫শে জুন উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে উপরাষ্ট্রপতির অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাটি। তিনি কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এবং ভাষণ দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ ও উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের আইনজীবী মহেন্দ্র সিং পাল। জানা যায়, ১৯৮৯ সাল থেকে মহেন্দ্র সিং পালের সঙ্গে ধনখড়ের বন্ধুত্ব। নৈনিতালের সাংসদ ছিলেন মহেন্দ্র, আর ধনখড় ছিলেন রাজস্থানের ঝুনঝুনুর সাংসদ।

ওই দিন পুরনো বন্ধুকে দেখতে পেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ধনখড়। কথা বলার সময় তিনি পুরনো বন্ধুর কাঁধে মাথা দিয়েই সংজ্ঞা হারান। ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পেরে দ্রুত চিকিৎসকরা ছুটে যান এবং তার চিকিৎসা শুরু হয়। এরপর তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসেন এবং তাকে রাজভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনেই উপরাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘোষণা, এবং তার ঠিক আগে এই অসুস্থতার ঘটনা – এই দুইয়ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কি সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন নাকি ভবিষ্যতে অন্য কোনো পদ গ্রহণ করবেন, সে বিষয়েও এখনো কিছু জানা যায়নি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘অসুস্থতা’ উল্লেখ করা হলেও, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ‘অপমানিত’ হওয়ার মতো কোনো ঘটনা কাজ করেছে কিনা, সেই জল্পনা রয়েই যাচ্ছে।