খড়গপুরে দিলীপের ‘পাল্টা ২১’! কল্যাণকে ‘তারকাটা’ বলে কটাক্ষ, উত্তাপ রাজনীতিতে

২১শে জুলাই যখন তৃণমূল কংগ্রেস শহিদ দিবস পালন করে শক্তি প্রদর্শন করছে, ঠিক তখনই খড়গপুরে দাঁড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ শানালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার রাজনীতিতে লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। তাঁর তীক্ষ্ণ আক্রমণে তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘তারকাটা’ বলে কটাক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি তুলোধোনা করার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।

গতকাল, ২১শে জুলাইয়ের দিন, যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহিদ মঞ্চ থেকে বিজেপিকে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছিলেন, ঠিক তার পরের দিনই দিলীপ ঘোষের এই পাল্টা আক্রমণ তাৎপর্যপূর্ণ। খড়গপুরে তিনি যে মেজাজে ধরা দিলেন, তাতে স্পষ্ট যে বিজেপিও তাদের অবস্থানে অনড় এবং তৃণমূলের কোনো আক্রমণকেই বিনা জবাবে ছাড়বে না।

দিলীপ ঘোষের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি সরাসরি ‘তারকাটা’ বলে আক্রমণ করেন, যা ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমায় পৌঁছে গেছে। এর পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তিনি চরমভাবে তুলোধোনা করেন, যা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ধারালো আক্রমণাত্মক ভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে। যদিও ঠিক কী মন্তব্য করে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনা করেছেন, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে দিলীপের অতীত রেকর্ড অনুযায়ী তা অত্যন্ত কঠোর ছিল বলেই অনুমান করা যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণ ২১শে জুলাইয়ের তৃণমূলের সমাবেশ এবং তার থেকে আসা বার্তাগুলির সরাসরি জবাব। আসন্ন নির্বাচনী মরসুমে বাংলার রাজনীতি যে আরও বেশি করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের সাক্ষী হবে, দিলীপ ঘোষের এই খড়গপুর সফর তারই ইঙ্গিত। তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’-এর পাল্টা হিসেবে দিলীপের এই ‘খড়গপুর কাঁপানো’ মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিকে নতুন করে রণক্ষেত্রের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।