২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন, বাংলা নিয়ে কী বলছে উত্তরপ্রদেশের গেরুয়া শিবির?

দেশের বহু রাজ্যে বিজেপির দাপট থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই গেরুয়া শিবিরের কাছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল চেষ্টা করেও মমতার गढ़ ভাঙতে পারেনি বিজেপি। আগামী বছর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তখন খোদ উত্তরপ্রদেশের বিজেপি শিবিরই বাংলা নিয়ে সংশয়ে ভুগছে। বাংলার বিজেপি নেতৃত্বের উপর পূর্ণ আস্থা থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বব্যাপী আধিপত্য ভাঙা কতটা সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন যোগী রাজ্যের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের মনে। তাঁদের মতে, উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ আর বাংলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।

বাংলা নিয়ে উত্তরপ্রদেশের ভাবনা:
বারাণসীর বাসিন্দা ও বিজেপি সমর্থক গাড়িচালক দীপক সিং বাংলা প্রসঙ্গে সোজাসাপ্টা বলেছেন, “বাংলায় যাতে বিজেপি কোনওভাবেই ক্ষমতায় আসতে না পারে, তার জন্য সবরকমভাবে চেষ্টা করবে মমতা দিদি। বিজেপির কাজ অত্যন্ত কঠিন।” একইরকমভাবে হতাশ অটোরিকশা চালক গিরিধারী শর্মাও। তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট: “পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীরা মমতা দিদির সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ওরাই মমতা দিদিকে ভোট দিয়ে জেতাবে। আমাদের এখানে পুলিশ সক্রিয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু বাংলায় মুসলমানরাই পুলিশকে মারে। পুলিশ কিছু করতে পারে না।” এই মন্তব্যগুলি উত্তরপ্রদেশের সাধারণ বিজেপি সমর্থকদের বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে ধারণার এক ঝলক দেয়।

উত্তরপ্রদেশেই কি চ্যালেঞ্জের মুখে বিজেপি?
শুধু বাংলা নয়, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও গেরুয়া শিবিরের অন্দরে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাঙালি বিজেপি নেতা বলেন, “যোগীজি ভালো কাজ করছেন। অনেকেই ‘বুলডোজার বাবা’র কাজে খুশি। কিন্তু আবার যোগীজির বিরুদ্ধে ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে। ফলে আমরা ক্ষমতায় ফিরতে পারব কি না, সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা থাকছেই।”

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বাংলা এবং ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ – এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে বিজেপির অন্দরে আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং কৌশলী বিশ্লেষণ নজরে পড়ছে। বাংলার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং উত্তরপ্রদেশে শাসকবিরোধী মনোভাবের আশঙ্কা, উভয় রাজ্যেই বিজেপির জন্য আগামী দিনগুলোতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।