রাতে ওষুধটা খাওয়ার পরই… ! আচমকা মৃত্যু IIT খড়্গপুরের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়ার

খড়্গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সদ্য এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার রাতে চন্দ্রদীপ পাওয়ার (২২) নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। চন্দ্রদীপের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। এই নিয়ে গত সাত মাসে খড়্গপুর আইআইটি-তে মোট পাঁচজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, যা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ক্যাম্পাসের ডাইনিং হলে খাবার খাওয়ার পর চন্দ্রদীপ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ওষুধ সেবন করেন। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, সে সময় কোনো কারণে ওষুধ শ্বাসনালীতে আটকে যায়। দ্রুত তাকে আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থিত বি সি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত চন্দ্রদীপের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তারা মঙ্গলবার সকালেই খড়্গপুরে পৌঁছান। চন্দ্রদীপের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চন্দ্রদীপ পাওয়ার অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার সহপাঠী বা শিক্ষকদের কাছ থেকে চন্দ্রদীপের কোনো মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতার লক্ষণ জানা যায়নি। ফলে তার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও এই একই ক্যাম্পাসে রিতম মণ্ডল নামে এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ তার রুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল। পরপর এই ঘটনাগুলি খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষের উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ভয় দানা বাঁধছে। শিক্ষাবিদ ও মনস্তাত্ত্বিকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং দ্রুত এই মৃত্যুর কারণগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।