২১শে জুলাইয়ে মমতার রণহুঙ্কার! কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ, জগন্নাথ মন্দিরের পর ‘দুর্গাঙ্গন’-এর ঘোষণা

২১শে জুলাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শহিদ দিবসের সমাবেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ কেন্দ্রকে একের পর এক তোপ দাগলেন। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ধর্মীয় রাজনীতি পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে মোদি সরকারকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “পুলিশকেও গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। লজ্জা করে না আপনাদের? আমাদের এখানে স্টেট ফোর্স রয়েছে। সেন্ট্রাল ফোর্স চাই কেন? বর্ডারে পাঠান।”
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যে সেন্ট্রাল ফোর্স মোতায়েনের জন্য নোডাল অফিসারের নম্বর চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তার জবাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কতজনকে জেলে পুরতে পারবেন? বলুন তো? ড্যামেজ ম্যানেজ করা যায় না।”
ধর্মীয় রাজনীতি ও বিভাজন নিয়ে তীব্র আক্রমণ:
এদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মীয় রাজনীতি নিয়েও কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “হঠাৎ মা কালী, মা দুর্গার নাম মনে পড়ছে! রাজবংশীদের চিঠি পাঠিয়ে বিভাজনের খেলা খেলছে কেন্দ্র।” একই সঙ্গে, তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’-এর অভিযোগ এনে বলেন, “বাংলায় এত রোহিঙ্গা এল কোথা থেকে? এই মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।”
ডিটেনশন ক্যাম্প ও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা:
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার এমন একটি সার্কুলার পাঠিয়েছে যা শুধু বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সার্কুলার আমাদের রাজ্যে পাঠানো হয়নি। ২ মে তা পাঠানো হয় বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে। যাতে সন্দেহ হলেই এক মাস ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা যায়।” তাঁর বক্তব্য, এই নীতির ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারেরও বেশি বাঙালি আটক হয়েছেন, যা তিনি “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলেই ব্যাখ্যা করেন।
নতুন চমক: ‘দুর্গাঙ্গন’ ঘোষণা:
সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এক নতুন ঘোষণায় চমক তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, জগন্নাথ মন্দিরের ধাঁচে একটি ‘দুর্গাঙ্গন’ গড়া হবে, যা সারা বছর দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। তাঁর কথায়, “জগন্নাথ মন্দির যেমন আছে, তেমনই দুর্গাঙ্গন গড়া হবে। সারা বছর মা দুর্গা দর্শন করতে পারবেন মানুষ।”
বাংলা ভাষা রক্ষার ডাক ও ‘নানুর দিবস’:
বাংলা ভাষা রক্ষার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এক বড়সড় আন্দোলনের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ২৭শে জুলাই ‘নানুর দিবস’ থেকে প্রতিটি শনিবার এবং রবিবার রাজ্য জুড়ে চলবে প্রতিবাদ মিছিল ও জনসভা। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষার উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। প্রত্যেক শনি ও রবিবার প্রতিবাদ মিছিল করুন।” আগামি ২৭শে জুলাই ‘ভাষা আন্দোলন’-এর ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২১শে জুলাইয়ের এই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে, তেমনই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং বাংলা ও বাঙালির আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।