স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে বড় পরিবর্তন! নতুন নিয়ম না মানলে পড়বেন মুশকিলে

মমতা সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরেই যে প্রকল্পটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, সেটি হলো ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় একটি মাত্র কার্ডের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার দাবি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি পরিবারকে আর্থিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প চালু করেছিলেন।
তবে, এবার এই প্রকল্পের নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি। এখন থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
কীভাবে করবেন অনলাইনে আবেদন?
আগে যেখানে ব্লক অফিসে গিয়ে বা ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হত, এখন সেই পদ্ধতি বদলে গেছে। রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে এই নতুন সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনলাইনে আবেদন করার জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে:
১. পোর্টাল অ্যাক্সেস: যেকোনো ওয়েব ব্রাউজারে গিয়ে swasthyasathi.gov.in টাইপ করুন।
২. আবেদন শুরু: হোমপেজে গিয়ে “Apply Online” অপশনটিতে ক্লিক করুন।
৩. ফর্ম নির্বাচন: এবার “Online Application for Swasthya Sathi Card” অপশনটি বেছে নিন।
৪. পরিবারের প্রধানের তথ্য: নতুন নিয়মে আবেদন করার জন্য পরিবারের মহিলা প্রধানের নাম দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপর নাম, বয়স, লিঙ্গ, সংখ্যালঘু স্ট্যাটাস, জাতি, ঠিকানা, পিন কোড, সবকিছু সঠিকভাবে ইনপুট করুন।
৫. পরিচয়পত্র ও যোগাযোগ: আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং রেশন কার্ডের তথ্য দিন। এই সমস্ত তথ্য একটি পিডিএফ ফাইলে যুক্ত করে আপলোড করুন।
৬. সদস্যদের তথ্য: এরপর “Add Member” অপশনে গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, রেশন কার্ড এবং আধার কার্ডের তথ্য পূরণ করুন।
৭. পরিচয়পত্রের আপলোড: প্রত্যেকের আধার কার্ডের পিডিএফ কপি আপলোড করুন।
৮. যাচাইকরণ: এরপর “Verify” অপশনে ক্লিক করে মোবাইলে আসা ওটিপি ইনপুট করুন।
৯. আবেদন সম্পন্ন: সবশেষে “Validate” অপশনে ক্লিক করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এই অনলাইন পদ্ধতির ফলে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা রাজ্যের অসংখ্য পরিবারের জন্য আরও সুবিধা বয়ে আনবে।