একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে অন্যরকম আবেগ, পহেলগাঁও শহিদদের সম্মান ও মমতার স্পষ্ট বার্তা

প্রতি বছরের ২১শে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস রাজনৈতিক বার্তা এবং জনসমাবেশের জন্য পরিচিত হলেও, এবার ধর্মতলার মঞ্চে দেখা গেল এক ভিন্ন ও গভীর আবেগের ছবি। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে মঞ্চে তুলে আনলেন সেইসব পরিবারকে, যাঁদের প্রিয়জন কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
পহেলগাঁও শহীদদের সম্মান:
এদিন নদিয়ার তেহট্টের শহীদ সেনা ঝন্টু শেখের বাবা এবং পহেলগাঁও হামলায় নিহত বিতান অধিকারীর পরিবার— এই দুই পরিবারকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহীদদের মর্যাদা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাগত জানান। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সংবর্ধিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক বাসিন্দা নিহত হন। এই হামলার পর শুরু হওয়া সেনা অভিযানে উধমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শহীদ হন ঝন্টু আলি শেখ। শহীদ ঝন্টু শেখের বাবা এদিন ধর্মতলার সভায় উপস্থিত ছিলেন, যাঁকে নিজ হাতে মঞ্চে তুলে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার স্পষ্ট বার্তা:
মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওঁদের আত্মত্যাগ আমরা কোনো দিন ভুলব না। বাংলার ছেলেরা দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। ওঁদের পাশে আমরা ছিলাম, আছি, থাকব।”
পহেলগাঁও হামলা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব বারবারই কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। এই আবহের মধ্যেই ২১শে জুলাইয়ের জনসভায় শহীদ পরিবারগুলিকে সাম্মানিক উপস্থিতি তৃণমূলের তরফে এক স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল একদিকে যেমন নিহতদের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে, তেমনই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পহেলগাঁও হামলার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ধারাবাহিক অবস্থানকে আরও জোরালো করছে। ২১শে জুলাইয়ের এই আবেগঘন মুহূর্তটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা শুধুমাত্র একটি শহীদ দিবসের সমাবেশ নয়, বরং জাতীয় সংহতি ও দেশের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।