নিহতের সংখ্যা ১৮৯ , ২০০৬ সালের মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ! ১২ অভিযুক্তকে মুক্তি দিল আদালত

২০০৬ সালের মুম্বাই লোকাল ট্রেন বিস্ফোরণ মামলায় আজ এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে বোম্বে হাইকোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। ভয়াবহ সেই হামলায় ১৮৯ জন নিহত হয়েছিলেন, কিন্তু এই মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনকেই বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন বিচারপতি অনিল কিলোর এবং বিচারপতি শ্যাম চন্দকের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে ২০১৫ সালে নিম্ন আদালত এই ১২ জনের মধ্যে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দিয়েছিল।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন রায় দিতে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণেই ব্যর্থ হয়েছে সরকার পক্ষ।
বিস্ফোরণের ভয়াবহতা ও নিম্ন আদালতের রায়:
২০০৬ সালের ১১ই জুলাই পশ্চিম মুম্বাইয়ের লোকাল ট্রেনের সাতটি কামরায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেই হামলায় ১৮৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং ৮২৪ জন আহত হন। আট বছর ধরে দীর্ঘ শুনানির পর মুম্বাইয়ের একটি এমসিওসিএ আদালত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্টে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া:
নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। সেই অনুমোদন পেতেই মহারাষ্ট্র সরকার বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। একই সাথে, সাজাপ্রাপ্তরাও নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেন। ২০২১ সালে করোনা অতিমারীর সময় সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বোম্বে হাইকোর্ট বিচারপতি কিলোরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে। গত ছয় মাস ধরে এই মামলার নিয়মিত শুনানি চলে, যার পর বিচারপতিরা রায় সংরক্ষিত রেখেছিলেন। এদিন সেই প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হয়।
আইনজীবীদের যুক্তি:
সাজাপ্রাপ্তদের পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, সরকার পক্ষের দায়ের করা মামলায় যে যুক্তিগুলি দেওয়া হয়েছে তা ত্রুটিপূর্ণ এবং নিম্ন আদালত রায় দিতে গিয়ে ভুল করেছে। যদিও সরকার পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম, তাই নিম্ন আদালতের দেওয়া শাস্তিই বহাল রাখা হোক।
তবে, হাইকোর্টের আজকের রায়ের পর ২০০৬ সালের মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলার ভবিষ্যত আবারও এক নতুন মোড় নিল। এই রায় নিঃসন্দেহে বিচার প্রক্রিয়া এবং দেশের সন্ত্রাসবাদ দমন নীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।