“১৯৯৩ সালে TMC বলে কোনও দল ছিল না…”-২১ শে জুলাই এর সভা নিয়ে কটাক্ষ নওসাদের

প্রতি বছরের মতো এবারও ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেস যখন তাদের ‘শহিদ দিবস’ পালন করছে, ঠিক তখনই এই দিনটির ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী। তিনি ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার, ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে নওসাদ সিদ্দিকী বলেন, “১৯৯৩ সালে তৃণমূল বলে কোনও দল ছিল না। এখন তারা বলছে তাদের শহিদ।” তাঁর এই মন্তব্য ২১ জুলাইয়ের শহিদদের নিয়ে তৃণমূলের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। নওসাদ সিদ্দিকী বোঝাতে চেয়েছেন যে, যখন ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানের ঘটনা ঘটেছিল এবং তাতে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস নামে কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব ছিল না। অতএব, এই শহিদদের ‘তৃণমূলের শহিদ’ হিসেবে দাবি করা ভিত্তিহীন।
নওসাদের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘকাল ধরে এই দিনটিকে তাদের ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে এবং ১৯৯৩ সালের ঘটনাকে তাদের রাজনৈতিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু নওসাদের প্রশ্ন সেই দাবির যৌক্তিকতাকে চ্যালেঞ্জ করছে।
আইএসএফ বিধায়ক আরও দাবি করেছেন যে, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। তাঁর মতে, ওই রিপোর্ট প্রকাশ হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং সেদিনকার ঘটনার পেছনের আসল চিত্র স্পষ্ট হবে। এই দাবির মাধ্যমে নওসাদ সিদ্দিকী স্বচ্ছতা এবং ঐতিহাসিক সত্যের উপর জোর দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নওসাদ সিদ্দিকীর এই দাবি তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের তাৎপর্যকে খর্ব করার একটি প্রয়াস। একই সাথে, এটি রাজ্যের বামপন্থী এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর মধ্যে তৃণমূল বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিতও বহন করে। এখন দেখার বিষয়, নওসাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ১৯৯৩ সালের কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের দাবিটি কতটা গুরুত্ব পায়।