উচ্চ মাধ্যমিকের মধ্যেই কি SSC নিয়োগ পরীক্ষা?…স্কুলে স্কুলে বার্তা পাঠাচ্ছে কমিশন

সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, আর এর মধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কমিশন ৭ সেপ্টেম্বর এবং ১৪ সেপ্টেম্বর – এই দুটি রবিবারকে সম্ভাব্য পরীক্ষার দিন হিসেবে দেখছে। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আবেদনকারীর সংখ্যা
স্কুল সার্ভিস কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষার সম্ভাব্য দিন চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। সরকার এখনও পর্যন্ত দিন জানায়নি। সরকার জানালেই আমরা পরীক্ষার দিন ঘোষণা করব।”

আবেদনকারীদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নবম-দশম শ্রেণির জন্য ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২ লক্ষ ৬১ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন জমা দিয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের আবেদনের সময়সীমা (১৪ জুলাই পর্যন্ত) শেষ হওয়ার আগেই সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। বর্ধিত সময়সীমায় আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশ
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগবিধিকে বৈধতা দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, SSC এখন পরীক্ষা সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কমিশন গত ৩০ মে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬ জুন রাত ১০:৩৫ থেকে অনলাইনে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে আবেদনের শেষ দিন ছিল ১৪ জুলাই, যা আরও সাত দিন বাড়িয়ে ২১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা
তবে, কমিশনের প্রস্তাবিত প্রথম পরীক্ষার দিন অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বরের পরের দিনই উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের প্রথম ভাষার পরীক্ষা রয়েছে। এছাড়াও, দ্বিতীয় সম্ভাব্য দিন অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বরের আগের দিন, শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর কম্পিউটার সায়েন্স, মডার্ন কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, পরিবেশবিদ্যা, হেলথ অ্যান্ড ফিজিক্যাল এডুকেশন এবং ভিসুয়াল আর্ট ও মিউজিকের পরীক্ষা রয়েছে।

একইভাবে, SSC-এর দ্বিতীয় সম্ভাব্য পরীক্ষার দিনের পরের দিন, ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার স্ট্যাটিস্টিকস, সাইকোলজি, কমার্শিয়াল ল অ্যান্ড প্রিলিমিনারিজ় অব অডিটিং, এবং ইতিহাসের পরীক্ষা রয়েছে। শিক্ষক মহলের একাংশ এই বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।