“তৃণমূলের গুন্ডা ট্যাক্সের জন্যই শিল্প আসে না বাংলায়”-দুর্গাপুর থেকে রাজ্যসরকারকে তোপ মোদীর

একদা ‘প্রাচ্যের শেফিল্ড’ নামে পরিচিত শিল্প সমৃদ্ধ বাংলার বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে শুক্রবার দুর্গাপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের গৌরবময় শিল্পযুগের সঙ্গে বর্তমান ‘বিধ্বস্ত’ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করেছেন। একইসাথে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাকে দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বাংলার উজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “এক সময়ে হাওড়াকে বলা হতো ‘প্রাচ্যের শেফিল্ড’। গঙ্গার দু’ধারে বড় বড় কারখানা ছিল। হাজার হাজার মানুষ কাজ করতেন। বড় বড় বাঙালি উদ্যোগপতিরা ছিলেন। আর কলকাতা তো ছিলই। দেশের প্রায় সব বড় কোম্পানির সদর দপ্তর ছিল এই তিলোত্তমাতেই।” তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাজ্যে সব আছে। নদী আছে, সমুদ্র আছে। এক সময়ে আমদানি, রপ্তানির শীর্ষে ছিল বাংলা। আজ, সব উদ্যোগপতিরা রাজ্য ছেড়ে পালাচ্ছেন।”
কেন এই পতন? প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার উত্তর দিলেন এবং সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন। মোদীর অভিযোগ, “তৃণমূল এখানে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ব্যবসায়ীদের ধমকায়-চমকায়। পয়সা তোলে।” তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “তৃণমূলের গুন্ডা ট্যাক্সের জন্যই এখানে শিল্প আসে না।” বাংলার যুবকদের ছোট কাজের জন্যও অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “এক সময়ে বাংলা বাণিজ্যে দিশা দেখিয়েছিল। এখন ছোট কাজের জন্যেও বাংলার যুবকদের বাইরে যেতে হয়।”
আসন্ন ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণধ্বনিও এই সভা থেকে শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি বাংলাকে শিল্পের পথে ফেরাতে বিজেপিকে একবার ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। মোদী প্রতিশ্রুতি দেন, “বিজেপিকে একবার ক্ষমতায় আনুন। বাংলা হবে দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্য। এটা মোদীর গ্যারান্টি। বাংলাকে এমন ভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান হয়, বিনিয়োগ আসে। তৃণমূল থাকলে এসব হবে না।” তিনি একটি নতুন স্লোগানও দেন: “তৃণমূল হঠাও, বাংলা বাঁচাও।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংশোধিত ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনে মুর্শিদাবাদে পিতা-পুত্রকে খুন, বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের মতো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হুমকির রাজনীতি করে তৃণমূল। মুর্শিদাবাদের মতো ঘটনা ঘটলে এখানকার পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।” মোদী জোর দিয়ে বলেন, “তৃণমূলকে সরাতেই হবে। তবেই আসল উন্নয়ন হবে পশ্চিমবঙ্গে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন বাংলার অতীত গৌরবকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবেগকে স্পর্শ করার চেষ্টা, তেমনই অন্যদিকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শিল্পে স্থবিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনে নির্বাচনী আবহ তৈরি করার এক সুচিন্তিত কৌশল।