“কেউ কীভাবে বিনিয়োগ করবে…?”-বাংলায় বিনিয়োগ ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুললেন মোদী

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্গাপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর মূল অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং “একতরফা” পুলিশি পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীরা বাংলায় আস্থা রাখতে পারছেন না।
প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় যখন ছোটখাটো বিষয়েও দাঙ্গা হয়, হিংসা হয়, আর পুলিশ একতরফা পদক্ষেপ নেয়, সেখানে কেউ কীভাবে বিনিয়োগ করবে?” তাঁর এই প্রশ্ন সরাসরি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। মোদী আরও যোগ করেন, “যেখানে ন্যায়ের আশাটুকু নেই, সেখানে বিনিয়োগ আসবে কী করে?”
এই মাটি থেকে দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্থান এবং বিধানচন্দ্র রায়ের দুর্গাপুরকে বড় শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলার সমৃদ্ধ শিল্প ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তিনি দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যিনি পরাধীন ভারতেও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার ভিত গড়েছিলেন। অথচ, প্রধানমন্ত্রীর আক্ষেপ, “আজকের বাংলায় সেই ঐতিহ্য কোথায়?”
মোদীর দাবি, “আজকের পশ্চিমবঙ্গের নতুন প্রজন্মকে ছোট ছোট চাকরির জন্যও অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে।” একসময় ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দুর্গাপুর, বর্ধমান, আসানসোলের মতো অঞ্চলের শিল্পক্ষেত্রে স্থবিরতা এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “আজ এখানে নতুন শিল্প তো আসছেই না, বরং যা আছে তাতেও তালা পড়ে যাচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন, “বাংলাকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে হবে।” তিনি দুর্গাপুর থেকে উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্পগুলিকে এই পরিবর্তনের প্রতীক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বিশ্বাস, “বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলা দেশের শিল্পের কেন্দ্রে পরিণত হবে। কারণ এখানে পরিশ্রমী কর্মীর অভাব নেই।” তিনি ২১ শতকের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প বিকাশে বাংলার সক্ষমতার কথা বলেন।
তবে, মোদীর মূল অভিযোগের তির ছিল তৃণমূল সরকারের দিকে। তিনি বলেন, “বাংলায় উন্নয়নের সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তৃণমূল সরকার। দিন বদলালে, তৃণমূল গেলে তবেই আসল পরিবর্তন আসবে। সেই দিন বাংলার বিকাশের নতুন গতি শুরু হবে।” প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, রাজ্য সরকার মানুষের প্রাণ বা দোকানপাটের সুরক্ষা দিতে পারে না এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগে ব্যর্থ। যতক্ষণ তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততক্ষণ এই পরিস্থিতি বদলাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার অর্থনীতি, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিজেপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা।