‘কুকুরকে চেন ছাড়া কেন?’ রাগে প্রতিবেশীকে গুলি করল উত্তরপ্রদেশের ব্যক্তি

একটি কুকুরের গলায় বেল্ট (লিস) না থাকার মতো তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে বচসা থেকে শেষ পর্যন্ত গুলি চালানোর মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। সভ্য সমাজে এমন বর্বরতা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত স্থানীয়রা। অভিযোগ, প্রতিবেশীর আপত্তিতে ‘অপমানিত’ বোধ করে এক কুকুরের মালিক শুধু বচসাতেই ক্ষান্ত হননি, সটান বন্দুক হাতে ফিরে এসে প্রতিবেশীর পায়ে গুলি চালিয়ে দিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতের ঘটনা, গাজিয়াবাদের লোনি এলাকার এক গ্রামের। লোনির অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (এসি‌পি) সিদ্ধার্থ গৌতম জানিয়েছেন, অভিযুক্তের নাম অরবিন্দ বনসাল। সেদিন রাতে তিনি তাঁর পোষা কুকুরটিকে লিস ছাড়াই এলাকায় হাঁটাতে বের হয়েছিলেন। কুকুরটি সম্ভবত কোনো প্রতিবেশীর অসুবিধা করছিল, আর তখনই প্রতিবেশী প্রবীন কুমার তাঁকে বাধা দেন। প্রবীনের এই আচরণ নাকি বনসালকে এতটাই ‘অপমানিত’ করে তোলে যে, তিনি চরম প্রতিশোধের পথ বেছে নেন।

প্রবীনের কথা হয়তো শেষও হয়নি, অথবা সামান্য তর্কাতর্কি চলছিল – কিন্তু সেটুকুও সহ্য করতে পারেননি বনসাল। কিছুক্ষণ পরেই কোনো রকম কথাবার্তা বা সমাধানের চেষ্টা না করে, সটান আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে ফেরেন। তারপর চোখের পলকে গুলি চালিয়ে দেন প্রবীনের উপর। গুলি লাগে তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুর নীচে, কাফ মাসলে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা প্রবীনকে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমন সামান্য বিষয় নিয়ে একজন মানুষের ওপর গুলি চালানোর মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি কেউ মেনে নিতে পারেননি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসি‌পি সিদ্ধার্থ গৌতম বলেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।”

স্থানীয়দের মুখে এক কথা, কুকুর হাঁটানো নিয়ে এমন ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের ঘটনা তাঁরা এর আগে কখনও দেখেননি। সমাজের মূল্যবোধের এমন অবনতি দেখে অনেকেই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। একটি নিরীহ কুকুরের সামান্য অবাধ্যতা কীভাবে দুজন মানুষের মধ্যে এমন চরম হিংসার জন্ম দিল, সেই প্রশ্নই এখন গাজিয়াবাদের লোনির বাতাসে ভাসছে।