“পবিত্র নর্মদা” নামে মুরগি? তীব্র বিতর্ক মধ্যপ্রদেশে, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা!

মধ্যপ্রদেশের হারদা জেলায় এক পশুপালন কলেজের বিজ্ঞাপনে একটি মুরগির নাম ‘নর্মদা’ রাখাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক এবং ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। নর্মদা ব্রাহ্মণ সমাজ-সহ স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো এই নামকরণকে ‘মা নর্মদা’-র প্রতি চরম অবমাননা আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছে। তাদের দাবি, হিন্দু ধর্মে জীবনদাত্রী ও পূজনীয় হিসেবে বিবেচিত নর্মদা মায়ের নাম একটি পশুর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া চূড়ান্ত অশালীন এবং বরদাস্ত করা হবে না।
বিতর্কের সূত্রপাত:
সম্প্রতি হারদা জেলার একটি পশুপালন কলেজের প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি বিক্রির ঘোষণা করা হয়। সেখানেই একটি বিশেষ প্রজাতির মুরগির নাম লেখা হয় ‘নর্মদা’। এই বিজ্ঞাপন প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মতে, নর্মদা নদী শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক সত্তা নয়, তিনি কোটি কোটি হিন্দুর কাছে ‘মা’ রূপে পূজিত। এমন একজন পবিত্র সত্তার নাম একটি প্রাণীর জন্য ব্যবহার করা ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত।
জনতার ক্ষোভ ও দাবী:
নর্মদা ব্রাহ্মণ সমাজের সভাপতি অশোক পরাশর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই বিজ্ঞাপনের বিরোধিতা করেছেন। মা নর্মদা আমাদের বিশ্বাসের প্রতীক। তাঁর নাম কোনো মুরগির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা অবিলম্বে এই বিজ্ঞাপন থেকে ওই নাম সরানোর দাবি জানাচ্ছি।” স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধভাবে কালেক্টরেট পর্যন্ত মিছিল করে যান। সেখানে যুগ্ম কালেক্টরের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের আপত্তি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় এবং কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
কলেজ কর্তৃপক্ষের সাফাই, কিন্তু বিতর্ক জারি:
যদিও পশুপালন কলেজের পরিচালক রাজীব খারে জানিয়েছেন, এই নামকরণ তাদের করা নয়। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মুরগিগুলো জবলপুরের একটি পোল্ট্রি সেন্টার থেকে কেনা হয়েছিল এবং সেই সেন্টারই তাদের ‘নর্মদা’, ‘কড়কনাথ’ ও ‘সোনালি’ নামে চিহ্নিত করেছিল। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটি ছিল বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি বিক্রির উদ্দেশ্যে, যেখানে এই নামগুলি স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহৃত হয়েছিল, কোনো অবমাননার উদ্দেশ্যে নয়।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের এই যুক্তি স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি। তাদের মতে, নামকরণ যেই করুক না কেন, একটি পূজনীয় নামের এমন অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশাসনের আশ্বাস:
হারদার জেলাশাসক সঞ্জীব নাগু বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি জানান, “নর্মদা নাম নিয়ে আপত্তির কথা উল্লেখ করে একটি মেমোরান্ডাম জমা পড়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এই ঘটনা আবারও সমাজে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং বাণিজ্যিক প্রচারের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর, যা এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।