প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফর! তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, যা বললেন মোদি?

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দুর্গাপুরে পা রাখছেন, আর তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে বঙ্গ বিজেপির অন্দরেই তৈরি হয়েছে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া— জল্পনা, উত্তেজনা, আর কিছুটা সংশয়। বিশেষত, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে দলের সাংগঠনিক স্তরে মঞ্চ বিন্যাস ও নেতার অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে, যা কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
মঞ্চ ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েন: দিলীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রীর সভা মানেই তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছানোর এক মোক্ষম সুযোগ। কিন্তু এবারের সভার আগে থেকেই দলের অন্দরে মঞ্চ ভাগাভাগি নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। রাজ্যের কোন কোন শীর্ষ নেতা মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন, কারা সামনের সারিতে বসবেন— এ নিয়েই চলছে দোটানা। বিশেষ করে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি ঘিরে টানাপোড়েন লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি তাঁর কিছু মন্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করায় সভায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্য বিজেপির একাংশ মনে করছে, দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব এই সফরে মিটে না গেলে আখেরে তৃণমূলই লাভবান হবে।
মোদী নিজেই চাঙ্গা করছেন কর্মীদের: তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ
তবে, এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে দূরে সরিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই মরিয়া। দুর্গাপুরে সভার আগে থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে চলেছেন। রাজ্যের “অপশাসন”, “দুর্নীতি” এবং “জনবিরোধী নীতি” নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলকে জবাবদিহি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার মানুষ সুশাসন চায়, কিন্তু তৃণমূল সরকার তা দিতে ব্যর্থ। তারা শুধু আত্মীয়পোষণ ও সিন্ডিকেট চালানো নিয়ে ব্যস্ত।” এমনকি, রাজ্য সরকার কীভাবে ‘অপরাধ ঢাকতে’ প্রশাসনকে ব্যবহার করছে, সেই অভিযোগও তিনি তুলে ধরেছেন।
লোকসভা নির্বাচনের সেমিফাইনাল? ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলার চেষ্টা
বঙ্গ সফরের আগে মোদীর এই কৌশলী আক্রমণ তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সফরকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের “সেমিফাইনাল” হিসেবে ধরা হচ্ছে। বাংলায় আসন সংখ্যা বাড়ানো বিজেপির কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ, আর সেই লড়াইয়ে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং জনমতকে প্রভাবিত করা— এই দুটিই মোদীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
রাজনৈতিক মহল বলছে, মোদী চাইছেন সভা থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তুলতে। যদিও তৃণমূল প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষকে “ভোটের আগে নাটক” বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের এক মুখপাত্রের কথায়, “যে সরকার ডবল ইঞ্জিন চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ডুবিয়েছে, তারা বাংলাকে কী শিখাবে?”
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে বঙ্গ বিজেপির ভেতরের এই টানাপোড়েন, জনসভার প্রস্তুতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর আক্রমণ— সবটাই এক জোরদার রাজনৈতিক যুদ্ধের পূর্বাভাস দিচ্ছে। এখন দেখার, দুর্গাপুরের মঞ্চ থেকে মোদী ঠিক কী বার্তা দেন, আর তার প্রভাব কতটা পড়ে রাজ্যের ভোট ময়দানে।