চন্দননগরের নিখোঁজ শিশু ও রুশ মায়ের খোঁজে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, ‘যেখান থেকে হোক খুঁজে আনুন!’

হুগলির চন্দননগরের সৈকত বসুর পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। আদালতের নির্দেশে তিন দিনের জন্য মায়ের হেফাজতে থাকার পর থেকেই পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ তার রাশিয়ান মা ভিক্টোরিয়া। চরম উদ্বেগের এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সৈকত। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত এই ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে – ‘যেখান থেকে হোক তাঁদের খুঁজে আনতে হবে!’
শীর্ষ আদালতের অনড় অবস্থান:
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, সময়ের অপচয় না করে অবিলম্বে মা ও সন্তানকে খুঁজে বার করতে হবে এবং শিশুকে দ্রুত বাবার হেফাজতে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে, রাশিয়ান মহিলা যাতে কোনোভাবেই দেশের বাইরে পালাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার করার জন্যও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যা এই মামলার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রাশিয়ান দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
সৈকত বসুর আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, ভিক্টোরিয়াকে শেষ দেখা গিয়েছিল গত ৪ঠা জুলাই দিল্লির রাশিয়ান দূতাবাসে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, ভিক্টোরিয়া নাকি দূতাবাসের একটি পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন এবং দূতাবাসের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রককে রাশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছে এবং ওই কূটনীতিকের বাসভবনে তল্লাশির অনুমতি চাওয়ার কথা বলেছে।
দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ:
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ কমিশনার ও ডিফেন্স কলোনি থানাকে শিশু উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও বিদেশ মন্ত্রককে ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ‘লুকআউট নোটিস’ জারি করতে বলা হয়েছে এবং তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বাবার গভীর উদ্বেগ:
আদালতে উপস্থিত হয়ে সৈকত বসু তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ছেলের বয়স মাত্র চার বছর আট মাস। অথচ ও এমন কথা বলছিল, যা শুনে আমি আঁতকে উঠি— ও বলত, জানলা থেকে ঝাঁপ দিতে মন চায়। নিজেকে আঘাত করত।” ছেলের এমন মানসিক অবস্থা নিয়ে সৈকতের আশঙ্কা স্পষ্ট। আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি এখন আশাবাদী যে, তাঁর সন্তানকে দ্রুত ফিরে পাবেন।
এদিন আদালতে ভিক্টোরিয়ার আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন। তবে মা-ছেলের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এই ঘটনা একদিকে যেমন একটি পারিবারিক বিচ্ছেদের করুণ চিত্র তুলে ধরছে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া পদক্ষেপের পর নিখোঁজ মা ও সন্তানের দ্রুত সন্ধান পাওয়া যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।