চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবকের মর্মান্তিক মৃত! শরীরের ৪০টি হাড় চুরমার, গ্রেফতার একাধিক

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে চোর সন্দেহে ২৮ বছর বয়সী উমেন্দ্র সিং ঠাকুরকে নৃশংসভাবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে আজাদ নগর এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ সেতুর কাছে। উমেন্দ্রর শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তে ৪২টিরও বেশি হাড় ভাঙার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা এই বর্বরতার মাত্রা স্পষ্ট করে তোলে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
চুরির অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার:
সূত্রের খবর অনুযায়ী, রবিবার রাতে নির্মীয়মাণ সেতুর কাছে কয়েকজন শ্রমিক ও নিরাপত্তারক্ষী উমেন্দ্রকে ধরে ফেলেন। তাদের সন্দেহ ছিল যে উমেন্দ্র ঘটনাস্থল থেকে লোহার রড চুরি করেছে। এই অভিযোগ এনেই তারা উমেন্দ্রকে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এই অমানবিক পিটুনি চলাকালীন উমেন্দ্র গুরুতর আহত হন।
পরে আশেপাশের স্থানীয়রা এসে উমেন্দ্রকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন এসে উমেন্দ্রকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৪০টিরও বেশি হাড় ভাঙা শরীরে, বিভৎস সিসিটিভি ফুটেজ:
পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে, যা এই পাশবিকতার সাক্ষী। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কীভাবে একাধিক ব্যক্তি উমেন্দ্রকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, উমেন্দ্রর শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর আঘাত ছিল। তার হাত-পা এবং পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে: উমেন্দ্রর শরীরে ৪০টিরও বেশি হাড় ভেঙেছে, যার মধ্যে পাঁজর, হাত ও পায়ের হাড়গুলো চুরমার হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের অনুমান, তীব্র রক্তক্ষরণ এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতই তার মৃত্যুর কারণ।
পরিবারের শোক ও চুরির অভিযোগ অস্বীকার:
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তরা জানিয়েছে যে, তারা উমেন্দ্রকে চুরি করতে দেখে ফেলেছিল এবং এরপর তারা তার জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিতে শুরু করে।
তবে, উমেন্দ্রর পরিবারের পক্ষ থেকে চুরির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। থানার বাইরে উমেন্দ্রর মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদে বসেন, যেখানে উমেন্দ্রর ভাইপো গোলু ঠাকুর কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার কাকু সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন। তাঁর মা এখন একা হয়ে গেলেন। কোনও অভিযোগ ছাড়াই ওঁকে পশুর মতো মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা ইন্দোর জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। গণপিটুনির মতো বর্বর ঘটনা বন্ধ করতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে প্রশাসন কতটা তৎপর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।