‘দোষারোপ করার আগে…’, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পাইলটদের

সম্প্রতি প্রকাশিত এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (এফআইপি)। পাইলটদের এই শীর্ষ সংস্থা তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে পাইলট প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ায় তাদের জোরালো আপত্তি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, দুর্ঘটনার জন্য আগাম কাউকে ‘দোষারোপ’ করার আগে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।

এক বিবৃতিতে এফআইপি বলেছে, ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বচ্ছ এবং তথ্য-ভিত্তিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা অপরিপক্ক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। এ ধরনের অনুমানভিত্তিক মন্তব্য উচ্চ প্রশিক্ষিত বিমানকর্মীদের পেশাদারিত্বকে হেয় করে এবং তাদের পরিবার ও সহকর্মীদের মনে অযৌক্তিক কষ্টের সৃষ্টি করে।’

কিছু দিন আগেই এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানের দুটি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ‘রান’ অবস্থান থেকে ‘কাটঅফ’ অবস্থানে চলে গিয়েছিল। রিপোর্টে ককপিটের দুই পাইলট সুমিত সাভারওয়াল ও ক্লাইভ কুন্দরের কথোপকথনের অংশও তুলে ধরা হয়। সেখানে একজন পাইলট নাকি অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি ফুয়েল সুইচ কেন কাটঅফ করলেন?’, যার উত্তরে অন্য পাইলট বলেছিলেন, ‘আমি করিনি’। এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এফআইপি তাদের বিবৃতিতে তদন্তের বিভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে একাধিক আপত্তি জানিয়েছে। তাদের প্রধান অভিযোগ, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ‘পাইলটের ত্রুটির দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করছে’ এবং তদন্তের মূল ভিত্তি হিসেবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ের (সিভিআর) আংশিক ভাষ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাইলটদের সংগঠন এই বিষয়ে বলেছে, ‘প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনটিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং পাইলটের ত্রুটি প্রমাণ করার জন্য এবং ফ্লাইট ক্রুদের পেশাদার দক্ষতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অথবা অসম্পূর্ণভাবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডিংয়ের নির্বাচিত অংশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই ধরনের পদ্ধতি পক্ষপাতদুষ্ট অথবা সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।’

এদিকে, অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সমস্ত বোয়িং ৭৮৭ এবং ৭৩৭ মডেলের বিমানের জ্বালানি সুইচের লকিং মেকানিজম জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করার জন্য সমস্ত বিমান সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে, তাদের বহরে থাকা সমস্ত বোয়িং বিমানে ফুয়েল সুইচ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলি প্রায় ১৫০টি বোয়িং ৭৩৭ এবং ৭৮৭ বিমান পরিচালনা করে, যার মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে ৩৩টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার রয়েছে। এই বিমানগুলিতে হানিওয়েল ৪টিএল৮৩৭-৩ডি মডেলের ফুয়েল সুইচ ব্যবহার করা হয়। এএআইবির প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বুলেটিনের প্রসঙ্গ টেনে বোয়িং ৭৮৭ সহ অন্যান্য বোয়িং বিমানগুলিতে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ লকিং প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল। যদিও বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িং এই বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেছে।

পাইলটদের সংস্থা এফআইপি এই দুর্ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের উপর জোর দিয়েছে যাতে প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।