ইজরায়েল ফের শুরু করলো হামলা, গাজা-ইরানের পর এবার সিরিয়ায় ভয়াবহ আক্রমণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে যখন ইসরায়েল সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ইসরায়েল সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছাকাছিও শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত সোমবার থেকে ইসরায়েল সিরিয়ার ইসলামিক নেতৃত্বাধীন সরকারের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়ে আসছে।

দামাস্কাস শহরে ইসরায়েলের আক্রমণ এতটাই মারাত্মক ছিল যে হামলার পর সর্বত্র শুধু কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে এই হামলাগুলো ইসরায়েলই চালিয়েছে। এর আগে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত অভিযান ছিল।

এই হামলার পেছনে দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা শহরে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং দ্রুজ যোদ্ধাদের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষকে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ জনের নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েল সিরিয়ার বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে শুরু করে এবং দ্রুত সিরিয়ার উপর হামলা শুরু করে।

এর আগে, ইসরায়েল সিরিয়াকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, যদি সিরিয়ার সেনাবাহিনী দ্রুজ সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ বন্ধ না করে, তাহলে তাদের “ধ্বংস করে দেওয়া হবে”। তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং দ্রুজ সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে, যেখানে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার একজন দ্রুজ ধর্মীয় নেতা অভিযোগ করেন যে সরকারি সেনাবাহিনী তাদের উপর “বর্বরভাবে” হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সিরীয় সরকার দাবি করেছে যে এই সহিংসতার পেছনে “অপরাধ চক্রের” হাত রয়েছে।

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা দেখে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডাকার খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, সিরিয়া বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের অনুরোধ করেছে, যা আলজেরিয়া সমর্থন করেছে। এই পরিস্থিতিতে, সিরিয়ার সুয়েইদা অঞ্চল এবং দামাস্কাসে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক করতে চলেছে, যেখানে এই সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্রুজ সম্প্রদায়ের লোকেরা হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মের সংমিশ্রণে একটি স্বতন্ত্র ধর্ম অনুসরণ করে। এই সম্প্রদায় মূলত সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান এবং ইসরায়েলে বাস করে। তাদের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে অনুমান করা হয়। সিরিয়াতে প্রায় ৭ লাখ দ্রুজ বাস করে। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান হাইটসে ২৯ হাজারেরও বেশি দ্রুজ বাস করে, যারা নিজেদেরকে সিরিয়ার নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং ইসরায়েল তাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্বের প্রস্তাব দিলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যে সংঘাতের জন্ম হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।