বিডিও অফিসের হেড ক্লার্ককে কুপিয়ে খুন! ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার দেহ, গ্রেফতার ১ আটক ৩

পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিডিও অফিসের হেড ক্লার্ক অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়ের (৩৮) ক্ষতবিক্ষত দেহ তাঁর ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে শিবু রাউল নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।

রহস্যময় মৃত্যু: শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি মেদিনীপুর শহরের জুগনুতলা এলাকায়। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে মেদিনীপুরেই থাকেন। প্রায় দু’বছর আগে কেশিয়াড়ি ব্লক অফিসে হেড ক্লার্ক হিসেবে যোগ দেন অভিষেক। প্রথম দিকে বাড়ি থেকে যাতায়াত করলেও, গত দু’মাস আগে তিনি ব্লক অফিসের কাছেই সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কাছে একটি বাড়িতে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করতেন তিনি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিষেককে দেখতে পাননি। দুপুরের পর তিনি দীর্ঘক্ষণ বাইরে না বেরনোয় প্রতিবেশীরা তাঁর ভাড়া বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। বহু ডাকাডাকি করেও সাড়া না পাওয়ায় তাঁরা জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, ঘরের ভেতরে অভিষেক ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় কেশিয়াড়ি থানায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিষেকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মৃতের মাথা ও ঘাড়-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে, যা পরিকল্পিত খুনের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

পরিবারের দাবি: এটি খুন, কোনো শত্রু ছিল না
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অভিষেকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। অভিষেকের দেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁরা নিশ্চিত যে এটি খুন এবং এ বিষয়ে তাঁরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মৃতের মাসতুতো দাদা অভিজিৎ পাল বলেন, “ভাইয়ের দেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে ওকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। ভাই আমার খুব ভালো ছেলে। ভাইয়ের কোনো শত্রু ছিল না। সম্প্রতি বাড়ির বদলে এইখানে অফিসের কাছে একটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। পুলিশের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে।”

অভিষেকের আরেক মাসতুতো দাদা গণেশ দে বলেন, “ভাইয়ের কারও সঙ্গে সেরকম কোনো শত্রুতা ছিল না। তবে ভাই মাঝে মধ্যে মদ্যপান করত। কিন্তু যেভাবে ভাইয়ের শরীরে ক্ষত রয়েছে এবং ঘরের চারিদিকে রক্ত ছিটানো রয়েছে, আমরা মনে করছি ভাইকে খুন করা হয়েছে।” একটা সময় গড়বেতায় পোস্টিং ছিল অভিষেকের। কয়েক বছর আগে কেশিয়াড়িতে পোস্টিং হয় তাঁর।

পুলিশি তদন্ত: আটক ও গ্রেফতারি
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।” তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা কেশিয়াড়ির সরকারি মহলে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। দ্রুত ঘটনার কিনারা করার দাবি উঠেছে।