SSC-র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শুনানি শেষ, ১০ নম্বর অতিরিক্ত দেওয়া হবে কি? নজরে হাইকোর্টের রায়

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নতুন করে শুরু হওয়া এসএসসি (স্কুল সার্ভিস কমিশন) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই ‘টেন্টেড’ (অনিয়ম বা জালিয়াতির সাথে যুক্ত) প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ খারিজ করেছে। এবার এই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে থাকা আরও কিছু প্রশ্ন তুলে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষ করে রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

সোমবার সারাদিন বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলে। মামলাকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ২০১৬ সালের বিধি মেনে নিয়োগ না করে ২০২৫ সালে নতুন বিধি তৈরি করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত যেখানে ২০১৬ সালের বিধি মেনে নতুন করে নিয়োগ করতে নির্দেশ দিয়েছিল, সেখানে রাজ্য সরকার এ বছরের মোট শূন্যপদ একসঙ্গে করে নিয়োগ করতে চাইছে।

এছাড়াও, নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের নম্বরের বিন্যাস-বিভাজন বদলে এবার আগে পড়ানোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টভুক্ত প্রার্থীদের তরফে ‘অন্যায়’ বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি, আগের বারে ৪৫ নম্বর পেলে পাশের নিয়ম বদলে এবার ৫০ নম্বর করা নিয়েও মামলায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

‘নন-টেন্টেড’ প্রার্থীদের অভিযোগ, ২০১৬ সালে যত শূন্যপদ ছিল, এবার বেআইনিভাবে তা প্রায় সাড়ে তিনশো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য ও SSC-র পাল্টা যুক্তি: নিয়মের বিবর্তন
সোমবারের শুনানিতে এসএসসি এবং রাজ্যের তরফে এই অভিযোগগুলির পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এনসিটিই-এর গাইডলাইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং এটি শিক্ষকদের দিক থেকে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিবর্তিত হয়।

রাজ্যের পক্ষে আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, ২০১৬ সালের নিয়োগ বিধিতে ২০১৮ সালে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের যে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে এসএসসি নিয়োগ বিধিতে আমূল বদল করে ২০১৯ সালে নতুন বিধি চালু করে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করে রাজ্যের দাবি, ২০১৬ সালের নিয়ম ২০১৯ সালের নিয়মেই বদলে গেছে, ফলে ২০১৬ সালের কোনো নিয়মের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সেই নিয়ম নিয়ে আলোচনারও কোনো অবকাশ নেই।

রাজ্যের আরও যুক্তি হলো, রাজ্য সরকার বছর বছর শূন্যপদের হিসাব রাখে এবং যখন শেষ পর্যন্ত নিয়োগের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সব শূন্যপদ একসঙ্গেই ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যের রয়েছে, ফলে ২০১৬ সালের সাথে শূন্যপদ জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বহীন।

কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, আদালত কোন পক্ষের যুক্তিকে মান্যতা দেয় এবং এই মামলার রায় এসএসসি-র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলে। এই রায়ের ওপর বহু প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।