মোদীর সভায় উপস্থিত থাকবেন? প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি তারিখ নিয়ে তুমুল জল্পনা চলছে – ১৮ এবং ২১ জুলাই। এই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক কর্মসূচি। ১৮ জুলাই দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ঘিরে দিলীপের উপস্থিতি নিয়ে বিজেপির অন্দরে যে চর্চা চলছিল, মঙ্গলবার দিলীপ নিজেই তার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে তিনি দুর্গাপুরে যাবেন।

তবে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি এখনও রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। ওই দিন খড়্গপুরে দিলীপ কী চমক দিতে চলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়ছে।

সায়েন্স সিটির বিতর্ক ও দলের ঐক্যবদ্ধতা
সম্প্রতি সায়েন্স সিটিতে রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য়কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যেখানে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং গুঞ্জন ছড়ায় যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আপত্তিতেই দিলীপকে ডাকা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, ১৮ তারিখ মোদীর সভাতেও দিলীপ ব্রাত্য থাকবেন কিনা, সেদিকেই সবার নজর ছিল।

তবে, গত এক সপ্তাহে বঙ্গ-বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সংবর্ধনা সভায় ডাক না পেলেও দিলীপ কিছুদিন আগে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে গিয়ে শমীককে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন। এর পরের দিনই তিনি দিল্লি উড়ে গিয়ে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিবপ্রকাশের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে, শমীকের সংবর্ধনা সভার মতো দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভাও ‘দিলীপ-শূন্য’ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছিল।

দিলীপের দাবি ও অন্দরের ব্যাখ্যা
সোমবার দিলীপ ঘোষ নিজেই জানান, প্রধানমন্ত্রীর সভা শুনতে তিনি দুর্গাপুর যাবেন। তবে তিনি দাবি করেন যে, দলের কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্বের তরফে তাঁকে এখনও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি দুর্গাপুরের স্থানীয় কর্মীদের ডাকে সাড়া দিয়েই যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন – “আগের দিনই দুর্গাপুর চলে যাব। ওখানকার কর্মীরা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মঞ্চে থাকব কি না বলতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর সভায় অনেক প্রোটোকল থাকে। মঞ্চে উঠতে বললে উঠব। নইলে কর্মীদের সঙ্গে বসেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনব।”

তবে বিজেপির একাংশের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তাদের মতে, দিলীপ শুধু কর্মীদের আমন্ত্রণের ভরসায় দুর্গাপুর যাচ্ছেন না। দিল্লি থেকে ‘সবুজ সংকেত’ এসেছে বলেই তিনি মোদীর সভায় হাজির থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি নেতার কথায়, “১৮ তারিখ দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় ঐক্যবদ্ধ বঙ্গ-বিজেপিকে দেখা যাবে। নরেন্দ্র মোদী নিজে হাজির থেকে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার আর দিলীপ ঘোষকে এক সূত্রে বেঁধে দেবেন।”

২১ জুলাইয়ের জল্পনা ও সুনীল বনসলের বার্তা
এদিকে, বঙ্গ-বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল সোমবার দুর্গাপুরে জানিয়েছেন, “অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে দুর্গাপুর আসবেন প্রধানমন্ত্রী। এটা রোড-শোয়ে পরিণত হবে। দুর্গাপুরের সমস্ত বাড়িতে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে। এছাড়াও স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচির অধীনে দুর্গাপুরে যে সব মনীষীদের মূর্তি রয়েছে, সেগুলি ও তার আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করা হবে।”

রাজনৈতিক মহলের এখন একটাই প্রশ্ন, ১৮ জুলাইয়ের সভার পর ২১ জুলাই খড়্গপুরে দিলীপ ঘোষের ‘চমক’ কী হতে চলেছে? এই দুটি তারিখই কি বঙ্গ-বিজেপির ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ করবে?