নবান্ন অভিযানে হুলস্থুল! ‘দাগিদের প্রোটেকশন, যোগ্যদের ব্যারিকেড’-ক্ষুব্ধ চাকরিহারা শিক্ষকরা

নবান্ন অভিযানে হুলস্থুল: ‘দাগিদের প্রোটেকশন, যোগ্যদের ব্যারিকেড!’ – ক্ষুব্ধ চাকরিহারা শিক্ষকরা, মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক নিষ্ফল
কলকাতা, ১৫ জুলাই, ২০২৫: রাজ্যের চাকরিহারা শিক্ষকদের ‘যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের’ দাবিতে নবান্ন অভিযানকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে যায় হাওড়ার মল্লিক ফটকে। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী, র্যাফ (RAF) এবং কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের প্রস্তাব মেনে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীরা, তবে সেই বৈঠক থেকে কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
‘দাগিদের সুরক্ষা, যোগ্যদের বাধা’: শিক্ষকদের ক্ষোভ
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের ডাকে এই নবান্ন অভিযানে, চাকরিহারা শিক্ষকরা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, “দাগিদের প্রোটেকশন, যোগ্যদের ব্যারিকেড!” অর্থাৎ, সরকার অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্তদের আড়াল করছে, আর যোগ্য প্রার্থীরা যখন ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন, তখন তাঁদের পথ আটকানো হচ্ছে। পুলিশি ব্যারিকেডের তীব্রতা এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রায় দু’মানুষ সমান উঁচু লোহার ব্যারিকেড মাটিতে গজাল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল এবং উপরে লোহার ক্লিপ লাগানো হয়েছিল, যা আন্দোলনকারীদের গতি রুখে দেয়।
ডেডলাইন প্রত্যাহার, নতুন রণনীতি: মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
আন্দোলনকারীরা প্রথমে আজকের মধ্যেই যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন দিয়ে রাতভর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের নতুন সিদ্ধান্ত হলো, এরপর থেকে সরকারের সঙ্গে আর কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন না তাঁরা। তাঁদের দাবি পূরণ না হলে, এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা।
মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক নিষ্ফল: ‘সরকার দাগিদের পাশেই’
মল্লিক ফটকে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তির পর প্রশাসনের প্রস্তাবে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। তবে এই বৈঠকেও কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, বৈঠকেও সরকারের মনোভাব ছিল অযোগ্যদের পক্ষেই। তাদের কথায়, “হাবেভাবে এদিনও দাগিদের পাশেই দাঁড়িয়েছে সরকারপক্ষ।”
আন্দোলনকারীরা তাঁদের আজকের অবস্থান প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর গার্ডরেল খুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবং আন্দোলন এখনও থামার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা এবং আন্দোলনকারীদের অনড় অবস্থান, উভয়ই রাজ্য রাজনীতিতে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।