বীরভূমে সমবায় ভোটে বিজেপির জয়জয়কার, অনুব্রতর গড়ে TMC-র হার

একদা তৃণমূলের ‘শক্ত ঘাঁটি’ বলে পরিচিত বীরভূম জেলায় সমবায় নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় জয়জয়কার ঘটেছে। ময়ূরেশ্বর বিধানসভার ইটাহাট কৃষি সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটির ৯টি আসনের সবকটিতেই তৃণমূলকে হারিয়ে দিয়েছে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এই পরাজয় তৃণমূলের অন্দরে ‘কোর কমিটির ভূমিকা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ইটাহাট সমবায় সমিতি: ফলাফলের বিস্তারিত
গতকাল, রবিবার ইটাহাট কৃষি সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটির ৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ১৮টি গ্রাম নিয়ে গঠিত সমবায় সমিতিটি গত ১০ বছর ধরে তৃণমূলের দখলে ছিল এবং এই সময়ে কোনো নির্বাচন হয়নি। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা সবকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যেখানে সিপিএম সমর্থিত প্রার্থীরা ৭টি আসনে লড়েছিলেন। ফলপ্রকাশের পর দেখা যায়, ৯টি আসনেই বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, যা তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
তৃণমূলের অভিযোগ: ‘রাম-বাম জোট’ দায়ী!
এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ দাবি করেছেন, এই ফলাফল আসলে ‘রাম-বামের জোটের’ জয়। তাঁর মতে, বিজেপি ও বামপন্থীরা একত্রিত হয়ে তৃণমূলকে পরাজিত করেছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই সমবায় নির্বাচনের ফলাফল আসন্ন বিধানসভা ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ ও বামেদের নীরবতা
অন্যদিকে, এই জয়ের পর বিজেপির পক্ষ থেকে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেছে। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল স্বচ্ছ নির্বাচন হলে হেরে যাবে জেনেই এতদিন ভোট করাতে দেয়নি। গেরুয়া শিবির দাবি করছে, মানুষ এখন তৃণমূলের দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছে।
এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বামেদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা: অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতির প্রভাব?
এই ফলাফল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে জেলে থাকায় তার অনুপস্থিতি এই সমবায় ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বীরভূমের মতো একটি জেলায়, যা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে পরিচিত ছিল, সেখানে সমবায় স্তরে এই ধরনের পরাজয় নিঃসন্দেহে শাসক দলের জন্য একটি অশনিসংকেত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই ফলাফল কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।