‘বিপদে পড়লেই মমতা বাঙালি মন্ত্র জপ করেন!’ সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা জবাব

দিল্লিতে ‘বাঙালি খেঁদাও’ অভিযান এবং বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের এই দাবির পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, যিনি অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির অংশ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে দিল্লিতে বসবাসকারী বাঙালি এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ: ‘বাংলা বললেই পুশব্যাক বাংলাদেশে!’
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, দিল্লিতে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের লক্ষ্য করে একটি অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে বাংলা বলতে শুনলেই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে অথবা জোরপূর্বক পুশব্যাক করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে ‘বাঙালি খেঁদাও’ অভিযান হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের মতে, এটি ভারতের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং ভাষাভিত্তিক বিভাজনের চেষ্টা।
সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা জবাব: ‘অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’
তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “দিল্লিতে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযান কোনো বাঙালি বা বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে লক্ষ্য করে নয়, বরং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ।
মজুমদার তৃণমূলের অভিযোগকে ‘ভোট ব্যাংকের রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “ভোট ব্যাংকের জন্যই তৃণমূল বিতর্ক করছে।” তার মতে, “ভোটের জন্যই মমতা (বন্দ্যোপাধ্যায়) বাঙালি মন্ত্র জপ করছেন” এবং “বিপদে পড়লেই মমতা বাঙালি মন্ত্র জপ করেন।” সুকান্ত মজুমদার আরও দাবি করেন যে, “বাঙালি হিন্দুদের বেশিদিন বোকা বানিয়ে রাখতে পারবেন না” এবং “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় করার চেষ্টা করছেন মমতা।”
রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা
তৃণমূলের অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা আক্রমণ উভয়ই দিল্লিতে বসবাসকারী বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক বাঙালি পরিবার যারা দীর্ঘকাল ধরে দিল্লিতে বসবাস করছেন, তারা এই ধরনের বিতর্কে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে, বিশেষত যখন রাজ্যের শাসক দল এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছে। এই পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।